শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৬

দুর্নীতিবিরোধী লড়াই

প্রতিশ্রুতি পূরণ কাম্য

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াই জনমনে দৃশ্যত আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। তবে এ লড়াই নিয়ে সংশয়ও কম নয়। কারণ দেশের জনগণ সেই পাকিস্তান আমল থেকেই দুর্নীতিবিরোধী লড়াই সম্পর্কে অবগত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো নামের তিক্ত অভিজ্ঞতাও দেশবাসীর কম নয়। ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দেশবাসীর মনে আশা জাগিয়ে তুলেছিল। কিন্তু সে লড়াই আরও বেশি দুর্নীতি নিশ্চিত করেছে। দুর্নীতিবাজদের পাকড়াওয়ের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা। এমনকি দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে অতীতের দুর্নীতিবিরোধী লড়াই এবং বর্তমান লড়াইয়ের গুণগত পার্থক্যও অনস্বীকার্য। অতীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত লড়াইয়ের পাঁয়তারা করেছিল অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসা মহাদুর্নীতিবাজরা। নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণকে হালাল করার জন্য জনগণকে ধোঁকা দিতে তারা তথাকথিত দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের ভেঁপু বাজিয়েছে। অন্যদিকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সাংবিধানিক সরকার। দ্বিতীয়ত এ সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন তার ঘর থেকে। সাফ সাফ বলে দিয়েছেন দুর্নীতিবাজ সে আত্মীয় হোক দলের লোক হোক কেউ ছাড় পাবে না। সরকার যে এ লড়াই আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিতে আগ্রহী তা প্রকাশ পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সারা দেশেই অভিযান চালানো হবে। অনেক নেতা, এমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নজরদারিতে আছেন।  দেশের উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার বিকল্প নেই। সরকারের সব অর্জন কিছু লুটেরা খেয়ে ফেলবে তা বাঞ্ছনীয় নয়।  আমরা আশা করব সরকার তার প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকবে।


আপনার মন্তব্য