শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৫

ব্যাংক ঋণের সুদহার

এক অঙ্কে নামিয়ে আনা জরুরি

ব্যাংক ঋণের সুদহার

ব্যাংক ঋণের মাত্রাতিরিক্ত সুদহার বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। দেশে বিনিয়োগের ধারা প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না ব্যাংক ঋণের উচ্চহারের সুদের কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ব্যাংক ঋণের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যাংকের কর্ণধারদের সঙ্গে বৈঠক করে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া বেশকিছু প্রস্তাব মেনেও নেন। কিন্তু কথা দিয়েও কথা রাখেনি বেসরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোর নেতিবাচক মনোভাবের ব্যাপারে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, চক্রবৃদ্ধি সুদের চাপে অনেক ব্যবসায়ীরই পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ব্যাংক খাতে যেমন স্বেচ্ছা ঋণখেলাপি রয়েছে, তেমন অতিরিক্ত সুুদের চক্করে পড়েও ঋণখেলাপি হয়েছেন এমন নজিরও বিদ্যমান। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের স্বার্থে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নে হার্ডলাইনে রয়েছে সরকার। ব্যাংকগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করতে না পারলে ব্যবসা বন্ধ করে দিন। অক্টোবরের পর এখন পর্যন্ত যেসব ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের বক্তব্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের স্বার্থে তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের সুদহার নিয়ে কথা বলে আসছেন। এত বেশি উচ্চসুদ আর কোথাও নেই। সরকারও এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো কথাই শুনছে না! গত সপ্তাহে একনেক সভায় একাধিক মন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়। এমনকি বার বার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও যারা তা বাস্তবায়ন করছে না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তাবও করা হয়। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামানো দরকার। ব্যাংকগুলো লুটপাটের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে এক অঙ্কের সুদেই তারা লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকতে পারবে। যে কারণে ব্যাংকগুলোকে শুধু এক অঙ্কে সুদ নির্ধারণে চাপ সৃষ্টি করা নয়, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায়ও বাধ্য করতে হবে। ব্যাংকগুলো যাতে লুটপাটের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হয় তা নিশ্চিত করাও জরুরি।


আপনার মন্তব্য