শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১৯

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য

বাজার মনিটরিং জোরদার করুন

জিনিসের দাম বাড়া মানে ভোক্তাদের কষ্ট বাড়া। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেলে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে যে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয় তা এক কথায় অসহ্য। সন্দেহ নেই, গত এক দশকে দেশবাসীর আয় কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এই সময়ে দেশ গরিব দেশের তালিকা ছেড়ে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এর পরের ধাপ ছিল মধ্য আয়ের এবং তারপর উচ্চ আয়ের দেশ। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্ন প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে করোনার আবির্ভাব। মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে করোনার কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষের আয় কমেছে। বিশেষ করে গরিব, নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্তরাও পড়েছেন সমূহ সংকটে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ মহাদুঃসময়ে একের পর এক বন্যার ছোবল আর অতিবৃষ্টিতে সবজি ও মাঠের প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সব নিত্যপণ্যের দামে আগুন লেগেছে। কাঁচা মরিচের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করেও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। পিঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁতে চলেছে। একমাত্র দাম কমেছে মাছের রাজা ইলিশের; যা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। উচ্চমধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্তরা সঞ্চয় ভেঙে খরচ মেটাতে পারলেও হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কর্মহীন মানুষ পড়েছে মহাসংকটে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে- এমন অনুদার কথা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু করোনার পর বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সবজির আকাল চলছে দেশজুড়ে। দাম বেড়েছে গড়ে চার গুণ; যা দিশাহারা করে তুলছে ভোক্তাদের। এ অবস্থার অবসানে পিঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের আমদানি জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি পুনর্বাসন দ্রুততর করতে হবে। অতিমুনাফার প্রবণতা রোধে বাজার মনিটরিং জোরদার করাও জরুরি।


আপনার মন্তব্য