শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩৩

ইতিহাস

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল

মোহাম্মদ মোস্তফার জন্ম ১৯৪৯ সালে ভোলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম হাবিলদার হাফিজ। ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যোগ দেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে নিয়োগ করা হয় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কুমিল্লায়। ’৭০ সালে তিনি বিয়ে করেন ১৬ বছরের কিশোরী পেয়ারা বেগমকে। তিনি যখন মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন তখন পেয়ারা বেগম অন্তঃসত্ত্বা। ১৪ এপ্রিল শত্রুর একটি দল প্রতিরক্ষার পেছন দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে ঘিরে ফেলছিল। মুক্তিবাহিনী দরুইল গ্রাম থেকে আখাউড়া রেলস্টেশনের দিকে পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে হলে তাদের প্রয়োজন ছিল নিরবচ্ছিন্ন কাভারিং ফায়ার। মোহাম্মদ মোস্তফা সহযোদ্ধাদের জানান তিনি নিজে এ কাভারিং ফায়ার প্রদান করবেন এবং সবাইকে পেছনে হটতে নির্দেশ দেন। সহযোদ্ধারা মোস্তফাকেও পশ্চাদপসরণের অনুরোধ করেন। কিন্তু কর্তব্যের টানে মোস্তফা ছিলেন অবিচল। তিনি সহযোদ্ধাদের বললেন, তাঁর প্রাণের তুলনায় সহযোদ্ধাদের অনেকের প্রাণের মূল্য অধিক। মোস্তফার ক্রমাগত নিখুঁত ফায়ারে পাকিস্তানিদের ২০-২৫ জন হতাহত হয় এবং তাদের সম্মুখগতি মন্থর হয়ে পড়ে। পাকিস্তানিরা মরিয়া হয়ে মোস্তফার অবস্থানের ওপর মেশিনগান ও মর্টারের গোলা বর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মোস্তফার এলএমজির গুলি নিঃশেষ হয় এবং তিনি মারাত্মক জখম হন। তখন পাকিস্তান বাহিনীর সৈনিকরা ট্রেঞ্চে এসে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।


আপনার মন্তব্য