সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

উপাচার্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দেন, তাকে নিয়োগ দেন আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য এ পদ অপরিহার্য। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘একাডেমিক লিডার’ শুধু নন, তিনি প্রশাসনিক প্রধানও বটে। দেশে স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে ৪৬টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। একাধিক প্রতিষ্ঠানে উপাচার্যের পদ শূন্য-এ পরিস্থিতি কেন? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ঘিরে বিতর্ক থেমে নেই। দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগবাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, ক্যাম্পাসে অবস্থান না করাসহ অনেক অভিযোগ এসব উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করোনা, ধর্ষণসহ নানা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ডিসেম্বরে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে উপাচার্যকে। অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকাসহ অনেক অভিযোগ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে। তার দায়িত্বের ১ হাজার ২৬৩ দিনের মধ্যে ১ হাজার ২৭ দিনই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। সেখানার উপাচার্যপন্থি কিছু শিক্ষক ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকার নকশা বিকৃত করে র‌্যালি করেছিল। ২০১৯ এ লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তালিকা তৈরি করেছিল সেখানে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ার পেছনে উপাচার্য, শিক্ষক রাজনীতিই মূল দায়ী। কারণ লোভনীয় এ পদে বসে তারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেন না। উপাচার্যরা সততা, নৈতিকতা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা আইন মেনে চলবেন- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। সম্মানজনক এ পদে অধিষ্ঠিতদের নিয়ে তদন্ত হয়-এটা শোভনীয় নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ-সংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেন আচার্য বা রাষ্ট্রপতি; রাষ্ট্র তাকে সেই ক্ষমতা ও মর্যাদা দিয়েছে।