শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৮

পানির সংকট

সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে

কোনো এলাকায় খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিলে তা শুধু খাওয়ার পানির সমস্যায় আটকে থাকে না, আরও বড় বড় সংকটের কারণ হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। কর্মসংস্থানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হয়। এ দিকগুলো সরকারের নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া দরকার। এ সংকট থেকে মানুষকে নিষ্কৃতি দিতে, রাজধানীবাসীর জন্য সুপেয় পানির সংকট কাটাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে। মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে বিশনন্দী এলাকায় দৈনিক ১০৫ কোটি লিটার পানি উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ে ওয়াসার নিজস্ব জায়গায় সুপেয় পানি উত্তোলন ও সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রথম ধাপে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে ঢাকা মহানগরীর উত্তর-পশ্চিমাংশে বিশেষ করে বাড্ডা, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, দক্ষিণখান, উত্তরখান, মাটিকাটাসহ অন্যান্য এলাকায় শতভাগ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা ওয়াসা প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। প্রকল্পটির ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর উত্তর-পশ্চিমাংশ ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহে পানি সরবরাহের মূল উৎস ভূগর্ভস্থ গভীর নলকূপ। কিন্তু প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে নলকূপগুলোর পানি উত্তোলন ক্ষমতা প্রতিনিয়ত কমছে। দেশের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট তীব্র। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি চিংড়ি ও লবণ শিল্পের প্রসারের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ করছে উপকূলীয় এলাকার গভীরে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর নলকূপগুলোর পানি লোনা হয়ে পড়ছে। এ সংকট দূর করতে হলে সমুদ্রের পানি পানযোগ্য করার বিষয়ে গবেষণা জরুরি।

সবার জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে।


আপনার মন্তব্য