শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:২২

রসুলকে নেতা বলা যথার্থ নয়

আল্লামা মাহ্‌মূদুল হক

‘রসুল’ শব্দটি বিশ্বনবীর বিশেষ গুণ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে। এতে সাহাবিদেরও শরিক করা হয়নি। অথচ সাহাবিদের মধ্যে অনেকেই নবী হওয়ার যোগ্য ছিলেন। স্বয়ং রসুলুল্লাহও এরূপ মন্তব্য করেছেন। যদি নবুয়তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকত তাহলে সাহাবিদের অনেকেই নবুয়তের পদমর্যাদা লাভে ধন্য হতেন। কিন্তু প্রয়োজন থাকেনি বিধায় নবুয়তের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকেনি। ‘রসুল’ শব্দটি এক বিশেষ অর্থ বোঝায়। তবে এ শব্দের মৌলিক দিক হচ্ছে তিনটি : ক. রসুলের কাছে আল্লাহর ওহি আসে। খ. রসুল নিষ্পাপ হন। গ. রসুল সর্বগুণে গুণান্বিত হন; তবে তিনি স্রষ্টা নন। এসব হচ্ছে রসুলের বিশেষ গুণাবলি; যা ব্যক্তিগতভাবে রসুলের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে সাহাবি অথবা অন্য কারও মধ্যে এ গুণের সমাবেশ হয় না তাই আয়াতে এ গুণটিকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করে রসুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে রাখা হয়েছে। এ শব্দের অর্থে ‘নবী’ শব্দটিও ব্যবহার হয়। এ জন্যই তাদের ক্ষেত্রে দুটি শব্দ ব্যবহারই যুক্তিযুক্ত। যারা রসুলের জন্য ‘নেতা’ শব্দ ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই ধরনের লোক। ক. কাফির-বেদীন এবং বিধর্মীরা বিশ্বনবীকে নবী অথবা রসুল বলে স্বীকার করে না। তাদের মধ্যে যারা চিন্তাশীল ও সুবিবেচক তারা বিশ্বনবীকে মহান নেতা বলে উক্তি করে থাকেন। খ. অনেক মুসলমানও অনেক সময় (বিশেষ করে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়) বিশ্বনবীকে নেতা বলে সম্বোধন করে থাকেন এবং তারা শ্রদ্ধা-ভক্তি সহকারে ভালো অর্থেই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু নিম্নোক্ত কারণে রসুল (সা.)-কে নেতা বলে সম্বোধন না করাই যুক্তিযুক্ত- ক. ভাষাগতভাবে ‘নেতা’ শব্দটির মাঝে কোনো ব্যাপকতা নেই। পক্ষান্তরে নবী-রসুল শব্দদ্বয় সর্বজনস্বীকৃত। নিখিল বিশ্বে এ দুটি শব্দ সর্বজনবিদিত এবং বিশেষ গুণের অধিকারী হিসেবে সব মহলে সমাদৃত। খ. নেতা শব্দের অর্থে ওহির বাহক অথবা নিষ্পাপ হওয়ার বাধ্যবাধ্যকতা নেই; বরং ভালো-মন্দ উভয়ের জন্য এ শব্দটি প্রয়োগ হতে পারে। এমনকি ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু ও অগ্নিপূজক প্রভৃতি বিধর্মীর বেলায়ও এ শব্দ প্রয়োগ হতে পারে এবং হয়ে থাকে। যারা ওলামা-মাশায়েখ, সৎ নেতৃবর্গ তাদের জন্যও এ শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে; পক্ষান্তরে যারা পাপাচারী, নগ্ন চরিত্রের অধিকারী, মদপানে অভ্যস্ত, অর্থ ও ক্ষমতালোভী নেতৃবর্গ তাদের বেলায়ও এ শব্দ ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে উভয় ক্ষেত্রেই এ শব্দটি প্রচলিত আছে। এ অবস্থায় এরূপ দ্বিমুখী অর্থবোধক শব্দ রসুলের জন্য ব্যবহার করা কেবল অযৌক্তিকই নয় বরং বিশ্বরসুলের শানে অবমাননাকরও। দ্বিমুখী অর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে ইহুদি-খ্রিস্টানরা নবীকে অবমাননা করত। সাহাবা ও বিশ্ব মুসলিম যাতে তাদের সঙ্গে এরূপ আচরণ না করে সে জন্য আল কোরআনে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে।

আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা (নবীকে ইহুদিদের মতো) “রায়িনা” বোল না।’ দ্বিমুখী শব্দ ব্যবহার করে বিশ্বরসুলের অবমাননা করায় আল্লাহ বিধর্মীদের হুঁশিয়ার করে ইরশাদ করেন, অনেক ইহুদি তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুরিয়ে নেয় এবং বলে ‘আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করেছি’। তারা আরও বলে ‘শ্রবণ কর শ্রবণ না করার মতো’। মুখ বাঁকিয়ে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বলে, ‘আমাদের রাখাল’!

আয়াতে দ্বিমুখী অর্থবোধক শব্দের মাধ্যমে নবীকে ইহুদিরা অবমাননা করত বিধায় মুমিনদের এরূপ শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে উপরোক্ত কারণে নেতা শব্দটি রসুলের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। গ. সর্বোপরি রসুলের বিশেষ গুণ বোঝানোর জন্য আল্লাহ রসুল ও নবী শব্দ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য