শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৫

আবারও লকডাউন

স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়িভাবে মানতে হবে

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় আগ্রাসনের মুখে আজ থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী লকডাউনে সব ধরনের জরুরি সেবা খোলা থাকবে, চালু থাকবে পণ্য পরিবহন, কাঁচাবাজার ও শিল্প কলকারখানা। সংবাদপত্রসহ সব ধরনের গণমাধ্যম যথারীতি চালু থাকবে। বন্ধ থাকবে বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। ব্যাংক চালু থাকবে সীমিত পরিসরে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার ৩৭৩ দিন পর হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনের সোজাসাপ্টা পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে শিল্পোৎপাদন এবং প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়েও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও এটিকে কেন্দ্র করে যে হারে মানুষ শহর থেকে গ্রামের দিকে ফিরেছে এবং সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে যানবাহন ব্যবহার করেছে তাতে এর সুফল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। লকডাউনের ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা সংকটের মুখে পড়বে। এসব অসহায় মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায় সে উদ্যোগও থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বড় আকারে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যুর হার আট গুণ এবং সংক্রমণ ছয় গুণ বেড়েছে। শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৬৮৩ জন শনাক্ত হয়েছে ও মৃত্যুর সংখ্যা ৫৮। মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি অন্তত ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল ও ভুটান তা প্রমাণ করেছে। সে দিকে সময়মতো তৎপর না হওয়ায় সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। আমাদের মতে, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনীতি দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। করোনাভাইরাসের জীবনহানির চেয়েও কেউ যাতে না খেয়ে প্রাণ না হারায় সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। যে কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব ধরনের কর্মকান্ড সচল রাখতে যত্নবান হতে হবে। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর হওয়ারও বিকল্প নেই। সপ্তাহ অন্তে, লকডাউনের অবসান ঘটিয়ে গরিব ও নিম্নবিত্তদের স্বার্থে সর্বস্তরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হলে সেটিই হবে সর্বোত্তম পথ।