শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৫

বোরো মৌসুম

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে

বাংলাদেশের কৃষক যুগের পর যুগ খাদ্যনিরাপত্তা জুগিয়ে গেছেন। এখন তাঁদের প্রতিদান চাই। ফসল কাটা থেকে শুরু করে বাজারে ও গুদামে নেওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের সাহায্য চাই। লোক, মজুরি, পরিবহনে সরকারি সহায়তা জরুরি। সরকারিভাবে ন্যায্য দামে ফসল কিনে সরকারি গুদামে যত দূর পারা যায় রাখতে হবে। এই সহায়তাটুকু দিয়ে কৃষক পরের ফসল রোপণের পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন। খাদ্য ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসতে হবে সরকারি তত্ত্বাবধানে। সব ধরনের কৃষিপণ্যের একটি তালিকা করে তার কেনাবেচা ও পরিবহনকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখতে হবে। ধান-সবজি-ফল মিলিয়ে এপ্রিল-মেতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টন কৃষিপণ্য বাজারে আসে। কৃষকের সারা বছরের বিনিয়োগের ফসল তোলার মৌসুম। তাঁরা ফসলের দাম না পেলে খাদ্যনিরাপত্তা বলি, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতি বাঁচানো বলি সবই ঘোর সংকটে পড়ে। সংকট কাটানো না গেলে জুন থেকে খাদ্য সরবরাহেও ধাক্কা পড়তে পারে। হাওরের ধান পেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। এর পরই উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ধানও ঘরে তুলতে হবে। মাঠের পর মাঠে বোরো ধান। হাওরের বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমিতে এখন সবুজের সমারোহ। বর্ষা মৌসুমে এ হাওর থাকে পানিতে টইটম্বুর। শুকনো মৌসুমে করা হয় বোরো চাষ। এটিই আবহমান বাংলার হাওরাঞ্চলের চিরচেনা রূপ। বছরে এ একটি ফসল ঘিরেই হাওর এলাকার মানুষের যত স্বপ্ন। বোরো ধান গোলায় উঠবে, দূর হবে তাদের শত দুঃখ-কষ্ট। কৃষক তাদের সারা বছরের আহার গোলায় রেখে উদ্বৃত্ত ধান বিক্রি করে সরকারের খাদ্যভান্ডারের জোগান দিয়ে থাকেন। এখন প্রয়োজন কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোয় অর্থায়ন বাড়ানো। সরকার করোনা পরিস্থিতির কারণে যে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে তাতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।