শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২৩:০২

তাঁতিদের দুর্দিন

সরকারি সহযোগিতার উদ্যোগ নিন

ঈদ পূজাপার্বণকে সামনে রেখে স্বপ্ন দেখে দেশের তন্তুবায়ীরা। পরপর দুই বছর সেই স্বপ্নে ছাই ঢেলেছে মহামারীর বৈরী সময়। এ বছর করোনাকালে এসেছে পয়লা বৈশাখ। পয়লা বৈশাখ ও পয়লা রমজান একই দিনে হওয়ায় দেশের কোথাও বাংলা নববর্ষ পালনের ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করা যায়নি। পয়লা বৈশাখের অর্থনীতিও মার খেয়েছে ঢালাওভাবে। দেশের তাঁতের শাড়ি তৈরির প্রধান কেন্দ্র টাঙ্গাইল। পয়লা বৈশাখসহ যে কোনো অনুষ্ঠানেই বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির প্রতি তাদের রয়েছে আলাদা টান। প্রতি বছরই টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে যুক্ত হয় বৈচিত্র্য আর নতুনত্ব। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। শুধু টাঙ্গাইল নয় সারা দেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সামনের ঈদে তাঁতিরা নতুন উদ্যমে বাহারি ডিজাইনের শাড়ি বুনন ও তা সারা দেশে সরবরাহে ব্যস্ত থাকলেও নানা আশঙ্কায় ভুগছে তারা। শাড়ি ব্যবসার জন্য পয়লা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজা প্রধান মৌসুম। এবার পয়লা বৈশাখে তেমন শাড়ি বিক্রি হয়নি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য যেসব শাড়ি আগেই তৈরি ছিল সেগুলোই এখন বাজারের অপেক্ষায়। বৈশাখে টাঙ্গাইলের তাঁতিরা ১০৭ কোটি টাকার শাড়ি উৎপাদনের আশা করেছিল। তাদের আশা ছিল শাড়িপ্রতি ১০০ টাকা লাভ হলে ৮ কোটি ৬ লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু বৈশাখের টার্গেট সুপার ফ্লপ। গত বছর থেকে বৈশাখ, ঈদ পূজাপার্বণে একই দুরবস্থা চলছে। শুধু টাঙ্গাইল নয় সারা দেশের তাঁতিরা তাদের মেরুদন্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছে। মহামারীতে খেটে খাওয়া মানুষ জীবিকার সংকটে অস্থির হয়ে পড়ছে। পয়লা বৈশাখ ঈদ পূজায় শাড়ি কেনা বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তন্তুবায়ীদের এই দুর্দিনে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে এমন আশাই করছেন তারা।