শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২২:৫০

প্রতারকদের দৌরাত্ম্য

আইন প্রয়োগকারীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

Google News

প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে প্রতারকরা পেতে রাখেনি প্রতারণার ফাঁদ। শুধু দেশি নয়, বিদেশি প্রতারকরাও সক্রিয় বাংলাদেশে। এতটাই সক্রিয় যে কয়েক বছর আগে মার্কিন ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটা অংশ তারা আত্মসাৎ করেছে নাটকীয়ভাবে। বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ উঠিয়ে উধাও হয়ে যাওয়াও প্রায়ই ঘটছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত আফ্রিকান নাগরিকের অনেকেই প্রতারণা নামের অতি লাভজনক ‘ব্যবসার’ সঙ্গে জড়িত। প্রতারক চক্রের সঙ্গে চীনা ও উত্তর কোরীয় নাগরিকদের কারও কারও সংশ্লিষ্টাও ওপেন সিক্রেট। বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষ প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী ডিজিটাল, অ্যানালগ সব প্রতারণায় মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। ডিজিটাল দুনিয়ার বড় অংশ জুড়েই প্রতারণার ফাঁদ। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানামুখী অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে যা খুশি তা হচ্ছে। নারী, শিশু ও সম্মানিত লোকজনও অনলাইনে নানাভাবে হয়রানির শিকার। ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে অভিযোগের পাহাড় পুলিশ, র‌্যাবে। কখনো সুপরিচিত কোনো নারীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ছবি নিয়ে ফেক আইডি খুলে তাতে আপলোড করা হচ্ছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। ফেসবুকে ই-কমার্স পেজ খুলে বিশাল মূল্যছাড়ের লোভ দেখিয়ে ক্রেতা থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্যই পাঠানো হচ্ছে না। আবার কখনো সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও খ্যাতিমান ব্যক্তি বা তারকাদের নিয়ে আপত্তিকর ও বানোয়াট ভিডিও বানিয়ে ছাড়া হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবে। পরে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রই প্রতারণার অক্টোপাসে বন্দী হয়ে পড়ছে মানুষ, পদে পদে ওত পেতে থাকছে নানামুখী বিপদ। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের এই যুগে ডিজিটাল প্রতারকদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। জনসচেতনতার অভাবে প্রতারকরা সহজেই টার্গেটকে ঘায়েল করতে পারছে। এ বিপদ উত্তরণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও খুবই প্রাসঙ্গিক।