শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:১১

গৃহহীনদের জন্য ঘর

দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হোক

Google News

ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের কয়েক মাস না যেতেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার মহৎ প্রকল্পটি কল্যাণের বদলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এটি হয়েছে উপহারের ঘরগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রে সীমাহীন কারচুপি ও দুর্নীতির কারণে। যে প্রকল্পের কারণে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মহত্ত্ব পরিস্ফুটিত হওয়ার কথা, আরব্য উপন্যাসের ‘থিফ অব বাগদাদের’ সমগোত্রীয়দের কারণে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। হতাশার মধ্যে আশা এটুকুই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তথা সরকার ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত অভিযোগে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। যেসব ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো পুনর্নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পকে বিতর্কিত করার দায় কার- এমন প্রশ্ন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে তোলপাড় তুলেছে। গৃহহীন ও উপহারের ঘর ভূমিহীনদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এ বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে শুধু সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নয়, কৃতজ্ঞ জাতির আবেগ জড়িত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৈথিল্যে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না এমনটিই আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তি পেতেই হবে। কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমান সরকার আমলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অন্তত তিন গুণ বেড়েছে। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিংহভাগ পা থেকে মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিতে আক্রান্ত থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের থেকে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পায় না। গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে যারা দুর্নীতির সাহস দেখায় তাদের চাকরিচ্যুতই শুধু নয়, আইন অনুযায়ী কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। পুনর্নির্মাণের সব খরচ অপরাধীদের থেকে আদায় করা হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই।