রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

শিল্পকারখানা

অর্থনীতি ও উৎপাদন সচল রাখতে হবে

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। তবে বাদ সাধেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা। তাঁরা দাবি করেন, কারখানা বন্ধ করলে ক্রয়াদেশ হারাবে বাংলাদেশ। তা ছাড়া শ্রমিকরা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে লকডাউনে শিল্পকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। করোনায় উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন পর্যন্ত কম। ঈদের ছুটির পর পুনরায় লকডাউন কঠোর করা হলে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সমস্যায় পড়বে উৎপাদনশীল খাত। আমদানি-রপ্তানিতেও সমস্যা হবে। শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন উৎপাদনশীল সব শিল্পকারখানা কভিডজনিত বিধিনিষেধের বাইরে রেখে সচল রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কভিড পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু উৎপাদনব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হলে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে সবাই বঞ্চিত হবে। কভিড বিস্তার রোধে জারিকৃত বিধিনিষেধ-সংক্রান্ত সার্কুলারে ওষুধ কারখানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ওষুধ কারখানা বন্ধ থাকলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হবে। ট্যানারি বন্ধ রাখা হলে কোরবানি ঈদে সংগৃহীত চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে। এতে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানিমুখী পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হলে অর্থনীতিতে ধস নামবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও সচল রাখতে উৎপাদনব্যবস্থা চলমান রাখা জরুরি। ঈদ-পরবর্তী ছুটি দীর্ঘায়িত না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনশীল খাত সচল রাখতে হবে।

এই রকম আরও টপিক