শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ আগস্ট, ২০২১ ২২:৪২

প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি কবিরা গুনাহ

আবদুর রশিদ

Google News

প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি থেকে দূরে থাকতে হবে। যারা এ ধরনের কবিরা গুনাহে জড়িত তাদের জন্য পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি।

মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হারাম। যারা অন্যকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ঠকিয়ে পয়সা রোজগার করে তাদের রোজগার হালাল নয়। মানুষকে নানান প্রবঞ্চনায় ফেলে যারা অর্থ লোটে তারা আসলে একজন হারামখোর।

একদা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে এক রাশীকৃত খাদ্যের (শস্যের) কাছে গিয়ে তার ভিতরে হাত প্রবেশ করালেন। তিনি আঙুল দ্বারা অনুভব করলেন যে, ভিতরের শস্য ভিজে আছে। বললেন, ওহে ব্যাপারী! এ কী ব্যাপার? ব্যাপারী বলল, হে আল্লাহর রসুল! বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। তিনি বললেন, ভিজেগুলোকে শস্যের ওপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকে দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয় সে আমার দলভুক্ত নয়। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, আবু দাউদ)।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয় এবং যে মানুষকে ধোঁকা দেয়, সেও আমাদের দলভুক্ত নয় (মুসলিম)।

আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয় সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়। ধোঁকা ও চালবাজ জাহান্নামে যাবে। (তাবারানির কাবির ও সাগির, ইবনে হিব্বান, সহিহুল জামে)।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার (মুসলিম) ভাইয়ের জন্য সেই জিনিস পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। (বুখারি, মুসলিম, ইবনে হিব্বান)।

তিনি আরও বলেন, দীন হলো হিতাকাক্সক্ষার নাম। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, কার জন্য হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রসুল, মুসলিমের নেতৃবর্গ এবং তাদের জনসাধারণের জন্য। (মুসলিম)।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইকে কোনো জিনিস বিক্রয় করার সময় তার কোনো ত্র“টি বয়ান না করে (গোপন করে রাখে)। (ইবনে মাজাহ, সহিহুল জামে)।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (বিক্রয়স্থল হতে) ক্রেতা-বিক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত (উক্ত ক্রয়-বিক্রয়ে) উভয়ের এখতিয়ার রয়েছে। সুতরাং যদি উভয়ে (ক্রয়-বিক্রয়ে) সত্য বলে ও (পণ্যদ্রব্যের দোষ-গুণ) প্রকাশ করে বলে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত লাভ হয়। অন্যথা যদি তারা মিথ্যা বলে ও (পণ্যদ্রব্যের দোষ-গুণ) গোপন করে, তাহলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় (বুখারি, মুসলিম)।

খাদ্যপণ্যে ভেজাল দেওয়া এক মারাত্মক অপরাধ। ধর্মীয় দৃষ্টিতে তা কবিরা গুনাহ। আমাদের দেশে এ অপরাধ অহরহ ঘটছে। নিজেদের ইমানদার হিসেবে দাবি করলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে উদ্যোগী হতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রতারণা বা ধোঁকা দেওয়ার গুনা থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।