সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

নকল ওষুধ

অপরাধীদের কঠোর শাস্তি কাম্য

ভেজাল ওষুধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে গোটা দেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে মানসম্মত ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হয় বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ। এসব ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে এমন সব দেশে যারা মানের ব্যাপারে শতভাগ আপসহীন। কিন্তু প্রদীপের নিচেই রয়েছে অন্ধকার। নকল ভেজাল ওষুধ তৈরিতেও বাংলাদেশ এগিয়ে। দেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর আছে। রয়েছে শক্তিশালী সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তারপরও নকল ভেজাল ওষুধের নিয়তি এড়ানো যাচ্ছে না আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গাফিলতির জন্য। যারা অপরাধীদের পাকড়াও করবেন তাদের মধ্যে প্রশ্রয়দানের মনোভাব থাকায় ভেজাল ওষুধ সারা দেশে আশঙ্কাজনকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। রোগ নিরাময়ের আশায় ওষুধ ব্যবহার করে উল্টো হুমকিতে পড়ছে রোগীর জীবন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নকল ওষুধ কারখানা বানিয়ে সেই ওষুধ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আনাচে কানাচে। জেনে-শুনে-বুঝে অতিরিক্ত লাভের আশায় ওষুধ দোকান মালিকদের অনেকেই বিক্রি করছে নকল ভেজাল ওষুধ। সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে মডেল ফার্মেসির কার্যক্রম। তদারকির দায়িত্বে থাকা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তারা কালেভদ্রে কিছু অভিযান চালিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, নকল ওষুধ উৎপাদনকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় কারখানা স্থাপন করলেও তাদের নকল পণ্য বাজারজাতের কেন্দ্রস্থল হলো পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা। এখানে গড়ে ওঠা ওষুধের পাইকারি বাজার থেকেই মূলত সারা দেশে নকল ও ভেজাল ওষুধ ছড়িয়ে পড়ে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধও নকল হচ্ছে অবলীলাক্রমে। নকল ওষুধ তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর আইন না থাকায় অপরাধীরা তাদের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। এ অপরাধ বন্ধে নকল ওষুধ তৈরির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নির্ধারণ হওয়া উচিত। মনুষ্য চেহারার খুনি ও লোভীদের বিরুদ্ধে কঠোর আঘাত হানতে প্রশাসনকেও তৎপর হতে হবে।

এই রকম আরও টপিক