বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

নারী পাচার রোধ

জনসচেতনতার বিকল্প নেই

প্রযুক্তির অপব্যবহার জনজীবনে অভিশাপ হয়ে দেখা দিচ্ছে। নারী পাচারের ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা টিকটক, লাইকি, ফেসবুক, ইমো, ভাইবার, ডিসকড, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির অ্যাপস ব্যবহার করে পাচারের জন্য নারীদের সংগ্রহ করছে। দালাল নিয়োগ করেও নানা কৌশলে নারীদের পাচার করে দিচ্ছে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতার, ওমানসহ বিভিন্ন দেশে। নারী পাচারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ৩০টি বা তারও বেশি নারী পাচারকারী চক্র সক্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যে গৃহপরিচারিকার চাকরির নামে নারী পাচারের ঘটনাও ঘটছে এবং এর সঙ্গে জড়িত আদম ব্যাপারি নামের মানব পাচারকারী চক্র। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে একটি বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বছরে ৫০০ ও আট বছরে ১ হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ২০২০ সালে দেশে মানব পাচারের যে ৩১২টি মামলার বিচার হয় তার ২৫৬টি ছিল নারী পাচার ও যৌন সহিংসতা-সংক্রান্ত। এ ছাড়া গত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার নারী সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে গেছেন। যার একটি অংশ যৌন নিপীড়নসহ নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশ থেকে নারী পাচারের যত ঘটনা ঘটে তার একটি ক্ষুদ্র অংশই গণমাধ্যমে আসে। সাধারণত পাচারের শিকার যারা তার অধিকাংশের পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করা কিংবা গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হওয়ার মতো বোধশক্তির অধিকারী নন। ফলে দেশে নারী পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটলেও তার ভয়াবহ আকার সম্পর্কে অবহিত নন সমাজের সচেতন মানুষও। নারী পাচার বন্ধের প্রধান উপায় হলো গণসচেতনতা সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা হাজার হাজার নারীর সর্বনাশ ডেকে আনছে। যার অবসানে সরকারসহ সব সামাজিক শক্তিকে সক্রিয় হতে হবে।

এই রকম আরও টপিক