শনিবার, ৭ মে, ২০২২ ০০:০০ টা

ধর্ষণ ও খুন

দ্রুত এ নৃশংসতা রুখতে হবে

মালা ছিঁড়ে গেলে একটির পর একটি পুঁতি যেভাবে খুলে খুলে পড়তে থাকে, অনেকটা সেই কায়দায় যেন ধর্ষণের ঘটনাগুলো একটির পর একটি ‘ঝরে ঝরে পড়ছে’। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঘটনা হচ্ছে খুন। ধর্ষকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের শিকারকে খুন করে বাঁচার চেষ্টা করে। একটির চেয়ে অন্যটি নৃশংসতম চেহারা নিয়ে ‘আবির্ভূত’ হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে আসছে একের পর এক খুন ও ধর্ষণের খবর। বৃদ্ধা থেকে শিশু- কারও যেন রেহাই নেই ধর্ষকের কবল থেকে। সংবাদপত্রে যেসব শিরোনাম ছাপা হচ্ছে এবং খুন-ধর্ষণর যেসব ঘটনা ঘটছে, তাকে একটি সমাজের বিচ্ছিন্ন অপরাধ-অপকর্ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ঈদের ছুটির চার দিনে দেশের ১৮ জেলায় ২৭ জন খুন হয়েছেন। রাজনীতিসহ নানা ধরনের বিরোধে এসব হত্যা ঘটে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায়ই রাজনৈতিক বিরোধে চারজন নিহত হয়েছেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ প্রাণহানি। সংঘর্ষের আশঙ্কায় এবং গ্রেফতার এড়াতে আস্তানগর গ্রামের অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঈদের দিন দুপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক লীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বগুড়ায় ঈদের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক সরকার এবং পোশাককর্মী ঝলকি খাতুন খুন হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, ঢাকা, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন স্থানে খুন হয়েছেন একাধিক মানুষ। এসব খুনের কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, জমিজমার বিরোধ, পূর্বশত্রুতা। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে শিক্ষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিও আছেন। এটি জনমানসের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। একটি শিশু যদি স্কুল বা মাদরাসায় শিক্ষকের কাছে নিরাপত্তা না পায়, তাহলে একজন বাবা বা মায়ের কাছে এর চেয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপের কী থাকতে পারে?

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর