দরজায় কড়া নাড়ছে বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি কেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে।
এবারও নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন কয়েক দফায় বৈঠকও করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই কেন্দ্রগুলোকে পুলিশের ভাষায় বলা হয়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করবে, সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।
জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসনভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে থাকে।
সাধারণত নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করার পরই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কয়েকটি মানদণ্ডকে সামনে রেখে 'ঝুঁকিপূর্ণ' কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে।
এক্ষেত্রে, অতীতে যেসব কেন্দ্রে সহিংসতা, ভাঙচুর বা ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রাখা হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভৌগলিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হয়। অর্থাৎ পার্বত্য অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল বা সীমান্তবর্তী এলাকার কেন্দ্রগুলোকেও রাখা হয় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায়।
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়ি কিংবা প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক নেতার বাড়ির পাশে যদি কোনো ভোটকেন্দ্র থাকে, সেটিও রাখা হয় এই তালিকায়।
ভঙ্গুর যাতায়ত ব্যবস্থা কিংবা যে জায়গায় কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটলে সহজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে পারেনা, সেই কেন্দ্রগুলোকেও 'ঝুঁকিপূর্ণ' কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়।
এছাড়া যেসব ভোটকেন্দ্রে অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নেই সেই সব কেন্দ্রকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে থাকেন। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন।
এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বিডি প্রতিদিন/নাজিম