শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৫০

'ফোনটা দাও, ওর সাথে একটু কথা বলি‌'!

ইফতেখায়রুল ইসলাম

'ফোনটা দাও, ওর সাথে একটু কথা বলি‌'!
ইফতেখায়রুল ইসলাম

হঠাৎ কান্না জড়ানো কণ্ঠে ফোনের অপর পাশ থেকে ছেলেটি বললো, ভাই মায়ের পা টা কাটতে হবে! পা কি কাটবো? রক্তের সম্পর্কের কেউ নই, উত্তর কী দেবো বুঝছিলাম না! সবকিছু জেনে মনে হলো, পা যদি কেটেও ফেলা হয় মাকে তো ছোঁয়া যাবে, আলতো করে চুমু খাওয়া যাবে, ভালোবাসাও যাবে! সন্তান নয়তো মায়ের কাটা পায়ের অবলম্বন হয়ে যাক।

কাছের কেউ না হয়েও হ্যা সূচক উত্তর দিলাম। আহা মা! এক পা কাটা যাক, তাও মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকো!

অফিসের উল্টো পাশ দিয়ে ছেলেটি তার মাকে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে করে যাচ্ছিল, ফোন করে বললো উল্টো পাশে আছি ভাইয়া। কণ্ঠে যতদূর কাঠিন্য এনে বলা যায়, বললাম ‌‌'আমি অসুস্থ মানুষ দেখতে পারি না'! আহত কণ্ঠস্বরে ওর জবাব 'আচ্ছা'! কিভাবে বুঝাই মায়েদের অসুস্থ হতে হয় না, অসুস্থ মা দেখে আমি সম্পর্কহীন এই ছেলে অভ্যস্ত নই। কেন মায়ার বাঁধনে জড়াবো বারবার? আমার মত পিতা মাতা হারানো সন্তানকেই মানুষ কেন বারবার মা হারানোর কষ্টে পোড়াবে?

রাত যত গভীর হয়, দুঃখ তখন আরও গভীরতর হয়। হঠাৎ মনে হলো মনের গভীর কোণে কোনো এক মায়ের জন্য তীব্র টান অনুভব করছি। ফোন দিতেই চিৎকার করে কান্নার শব্দ পেলাম। সে কি তীব্র যন্ত্রণা! সবচেয়ে খারাপ সন্তানও সম্ভবত চায় তার মা বেঁচে থাকুন। কান্নার মাঝে সেই মা থেকে থেকে বলছে 'দাও ওর সাথে একটু কথা বলি'! কখনো দেখা হয়নি, কথা হয়নি... এ কেমন নিদারুণ কষ্টের ভালোবাসা। ছেলেটি বললো 'ভাই দোয়া করেন, আল্লাহ আমার মাকে কবুল করে নিক'! জানি এমন প্রার্থনা করতে হয় না কিন্তু আমারও মনে হতে থাকলো মহান স্রষ্টা হয় সুস্থ করে দিন, নয়তো তার সন্তানের চাওয়াকে কবুল করে নিন।

মায়েরা কেন অসুস্থ হবে সেটাই বোধগম্য হয় না। মায়েরা তো পরশ পাথর যারা দুনিয়ার মুখ দেখান, ভালোবাসেন, মানুষ করেন! তাদের অসুস্থ হলে কি চলে? কেন বারবার একের পর এক মা বুক খালি করে চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যাবেন? অতি আদরের, ভালোবাসার সন্তানদের বুঝি আর ভালোবাসা পেতে হয় না! কেন সন্তানদের কাছ থেকে তাদের মা বলে ডাকার অধিকারটুকু হারিয়ে যাবে? কেন তাদের মাথার উপরের শেষ ভালোবাসার ছায়াটুকু থাকবে না?

মায়েরা ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, ভালোবাসায় থাকুন কিন্তু সন্তানদের একা ফেলে কোথাও হারিয়ে যেয়েন না প্লিজ...!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য