শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:১৪
প্রিন্ট করুন printer

করোনায় মধ্যবিত্তের অ্যাডজাস্ট সমাচার

রিয়াজুল হক

করোনায় মধ্যবিত্তের অ্যাডজাস্ট সমাচার
রিয়াজুল হক

যারা মাসিক বেতনের ভিত্তিতে কাজ করে, যাদের আয় নির্ধারিত, যাদের বেতনের বাইরে কোন আয় নেই, অনেকের মতে তারাই মধ্যবিত্ত। সহজ কথায়, মধ্যবিত্তরা দারিদ্র্যসীমার উপরে বসবাস করে কিন্তু তারা উচ্চবিত্ত নয়। 

মধ্যবিত্তের মোটামুটিভাবে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে-
- এরা শিক্ষিত, রুচিশীল এবং মননশীল বিশিষ্ট হয়ে থাকেন।
- আত্মসম্মান বোধ থাকে।
- অভাব-অনটনের বিষয়ে মুখ বুজে সহ্য করেন, তবু কারো কাছে হাত পাততে পারেন না। 
- বিত্তবান কিংবা বিত্তহীনদের মত যে কোন কাজও করতে পারেন না।
- সমাজ কি বলবে, এই নিয়ে তারা চিন্তিত থাকেন।
- এরা সৃজনশীল ভূমিকা পালন করে থাকে।

উপরের বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে উচ্চবৃত্ত কিংবা নিম্নবিত্তের মানুষের যে কোন মিল নেই, সেটা বলা যাবে না। 

নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে করোনার প্রকোপ আবার দেখা দিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আবার নতুন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। যে কোন সমস্যায় উচ্চবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী মধ্যবিত্ত। কারণ তাদের সীমিত আয়। খরচ বেড়ে যাওয়ার একটা বিষয় থাকে। বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, বাচ্চাদের শিক্ষাবাবদ খরচ, ওষুধ খরচ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল, মাসিক ডিপিএস ইত্যাদি খরচ বাদ দিয়ে যে টাকা অবশিষ্ট থাকে, সেটা দিয়ে তারা দৈনন্দিন নিত্য-প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর জন্য ব্যয় করে। অর্থাৎ কোন খাতে তারা কত ব্যয় করবে সেটা মাসের শুরু থেকেই নির্ধারিত। যদি কোন মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসের ২৫ তারিখের পর বাকিতে পণ্য কিনতে হয়, তাহলে তার সারা বছরই সেই ভাবে চলতে থাকে। যদি কোন মাসে বাচ্চার লেখাপড়ার খরচ বেড়ে যায় কিংবা ওষুধের জন্য খরচ বেড়ে যায়, তবে সেই মাসে খাবারের জন্য কিছুটা কম খরচ করতে হয়। 

আয় নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে হিসাব নিকাশ যা করার, খাদ্যের খরচের উপরই করতে হয়। যদি বাড়ি ভাড়া বেড়ে যায়, পরের মাস থেকে খাবারের মান একটু কমে যায়, যতদিন না পর্যন্ত বেতন বাড়ে। এই হচ্ছে মধ্যবিত্তের অবস্থা। কোন দিকে যদি খরচ বেড়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়ে দিনের খাদ্য তালিকার উপর।

যদি কোন পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়, সাথে সাথে তার মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করেও মূল্য বাড়ানো হয়। ৪০ টাকা কেজি দরের চাল একদিন পর হয়ে যায় ৪৮/৫০ টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবার চাইলেই কিন্তু বেশি পরিমাণে কিনে রাখতে পারে না। কারণ তার আয় নির্দিষ্ট আর কোথায় কি খরচ করবে, সেটা আগে থেকেই নির্ধারিত। যে কারণে নিত্য-প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে গেলে, তাদের খাদ্যের তালিকা কিংবা পরিমাণ বিবেচনা করতে হয়। হয়তো আগে সপ্তাহে ৪দিন দুপুরে মাছ খেতো, তখন ২দিন খাচ্ছে। সয়াবিনের পরিবর্তে পামওয়েল কিনছে। আগে সকাল বেলা পরিবারের চার সদস্য ৪টি ডিম খেত, তখন ২টা ডিম  ভাগ করে ৪জন খাচ্ছে। 

মধ্যবিত্তরা চাইলেই বাচ্চার টিউশনি বন্ধ করে দিতে পারে না, গ্রামে বাবা-মায়ের কাছে টাকা পাঠানো বন্ধ করতে পারে না। কারো কাছে হাত পাততে পারে না। পারে শুধু খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করে জীবনমান পরিচালনা করতে পারে। অন্যের কাছে ছোট হতে পারে না। শুধু পরে অ্যাডজাস্ট করে চলতে। করোনাকালের এই মহাদুর্যোগেও তারা ব্যতিক্রম নয়।

লেখক: যুগ্ম-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত