Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩

রাজশাহীর লিটন কোন পথে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীর লিটন কোন পথে

বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের পুত্র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সদস্য পদে রাখা হয়েছে। ২০১২ সালে দলের ১৯তম সম্মেলনেও তিনি এ পদ পেয়েছিলেন। রাজশাহীর সাধারণ নেতা-কর্মীরা মনে করেছিলেন, এবার তাকে তুলনামূলক ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। কিন্তু তাকে একই পদে রেখে দেওয়ায় রাজশাহীর সাধারণ নেতা-কর্মীরা হতাশ। তারা মনে করছেন, এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দলে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। নেতা-কর্মীরা যে উদ্দীপনা নিয়ে দলের জন্য কাজ করছিলেন, তাতে ভাটা পড়বে অনেকটাই। বিষয়টি স্বীকার করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে একটা হতাশা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে দলে। তবে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আমরা কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি যা করবেন আমরা তাই মেনে নেব। তিনি যা করেছেন আমরা তাতেই সন্তুষ্ট।’ আওয়ামী লীগের হয়ে খায়রুজ্জামান লিটন ইতিপূর্বে সদর আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করেছেন। ২০০৮ সালের পর থেকে এ আসনটি জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির। বর্তমানে রাজশাহীর সংসদীয় আসনগুলোয় যারা আছেন, আগামীতে তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর মেয়র নির্বাচন না করার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন তিনি। ফলে আগামীতে কোন পথে লিটনের গন্তব্য— এমন প্রশ্ন এখন নগরজুড়ে। তবে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামীতেও মেয়র পদে নির্বাচন করতে দেখা যাবে নগর আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতাকে। মেয়র পদে তার বিকল্প হিসেবে এখনো তেমন কেউ নেই। ফলে এই সময়টা দলের ভিতরে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা ও জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে নিতে লিটনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। তবে লিটন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ পদ না পাওয়ার জন্য নেতা-কর্মীরাই দায়ী বলে মনে করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী সদরে আওয়ামী লীগের এমপি নেই। সিটি করপোরেশনে দলের মেয়র নেই। নেতা-কর্মীরা অতি আত্মবিশ্বাসী। এ জন্য লিটন মেয়র হতে পারলেন না। কেন্দ্রে ‘বড়’ পদ দিয়ে কী হবে? তারপরও আওয়ামী লীগ একটি বড় সংগঠন। এই দলের কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়াটাও কম নয়। জাতীয় নেতার সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী লিটনকে খুব স্নেহ করেন। তাকে সম্মানজনক পদেই রাখা হয়েছে।’


আপনার মন্তব্য