শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৩৯

ইসির চ্যালেঞ্জ দুই সিটিতেই

থাকছে না সেনা, মাঠে থাকবে র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি, আজ বৈঠক

গোলাম রাব্বানী

ইসির চ্যালেঞ্জ দুই সিটিতেই
Google News

সংসদ নির্বাচনের আগে দুই সিটিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। গাজীপুর-খুলনা সিটি ভোট সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনাররা মাঠে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সেইসঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রধান করে দুই সিটিতে দুটি সমন্বয় কমিটিও করা হয়েছে। ইসির নির্দেশনা হচ্ছে সিটি নির্বাচনের অনিয়ম যেন সংসদ নির্বাচনে প্রভাব না ফেলে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ভোট গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তা যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তবে তত্ক্ষণাৎ তাকে অপসারণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে বিএনপি দাবি জানিয়ে এলেও সেনা ছাড়া চার দিনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগের পরিকল্পনা সাজিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ দুই নির্বাচন ঘিরে আজ বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবও উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে অংশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিজিবি-র‌্যাব-আনসার ও ভিডিপি-গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক; ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সঙ্গে সভা করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.)। বৈঠকে তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ওইদিন তিনি বলেছেন, সিটি নির্বাচন সামনে রেখে সমন্বয় কমিটি গঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। এ ছাড়া সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে ১৯টি টিম নির্বাচনী এলাকায় কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ আইনের ওপর চলে। কোনো প্রার্থী আইনের ব্যত্যয় ঘটালে সেখানে যতটুকু আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয় তা নেওয়া হবে। সীমিতসংখ্যক কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ইচ্ছা আছে। নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। বিএনপি বরাবরই এ দুই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দলটির প্রতিনিধি দলও লিখিত প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা কমিশনের নেই। আজকের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনীকে কোনো সিটি ভোটে মোতায়েন করেনি বর্তমান কমিশন। এবারও আইনশৃঙ্খলার কর্মপরিকল্পনায় তাদের রাখা হয়নি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, ব্যাটালিয়ন আনসারসহ সংশ্লিষ্ট নিয়মিত বাহিনী দিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বৈঠকের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হবে বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

নির্বাচনের আগে পরে চার দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী : প্রতি কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২২ থেকে ২৪ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পুলিশ-এপিবিএন-আনসার ব্যাটালিয়ান নিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে গাজীপুরে ১৯টি ও খুলনায় ১০টি টিম; র‌্যাবের ৫৭টি টিম গাজীপুরে ও খুলনায় ৩১টি টিম থাকবে; বিজিবি থাকবে গাজীপুরে ২৯ প্লাটুন; খুলনায় ১৬ প্লাটুন। নির্বাহী হাকিম থাকবেন সব মিলিয়ে গাজীপুরে ৮৬ ও খুলনায় ৪৯ জন। বিচারিক হাকিম গাজীপুরে ১৯ ও      খুলনায় ১০ জন।