Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মে, ২০১৯ ২৩:৩৫

সরকারি সম্পদ ফিরিয়ে না দিলে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি সম্পদ ফিরিয়ে না দিলে কঠোর ব্যবস্থা
ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সরকারের সম্পদ ও জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখলে রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি গতকাল বঙ্গভবনে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৮ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। এ সময় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও দুদক সচিব দিলোয়ার বখত উপস্থিত ছিলেন। ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, এবারের বার্ষিক প্রতিবেদনে কমিশন থেকে ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাসপোর্ট প্রদান সহজীকরণ, স্বাস্থ্য, আয়কর, হিসাবরক্ষণ অফিসসমূহে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সরকারি নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা, মন্ত্রণালয়ের কার্য উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম এবং জনহয়রানির সম্ভাব্য উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুর্নীতি-অনিয়ম বা হয়রানি থেকে উত্তোরণের জন্য ১২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে যারা সরকারি সম্পত্তি রেল, সড়ক, গণপূর্ত কিংবা খাস জমি, চান্দিনা ভিটা, সায়রাত মহল, দেবোত্তর কিংবা ওয়াকফ, নদী সিকস্তি ইত্যাদির জমি বা সম্পদ অবৈধভাবে দখল করে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানিয়ে বা অন্য কোনোভাবে দখল করেছেন, তাদেরকে কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ এসব সম্পত্তি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় ফিরিয়ে দিন। নইলে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এ ছাড়াও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে কমিশনের দৃষ্টি সার্বক্ষণিক থাকবে। এসব ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, ভবন নির্মাণ ক্ষেত্রে কমিশনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। তবে দুর্নীতি সংঘটিত হলে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি নির্মাণ কাজের প্রতি দৃষ্টি রাখা হবে। সড়ক নির্মাণ কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় নির্মাণসহ সব নির্মাণ কাজ অনুমোদিত এস্টিমেশন অনুযায়ী করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যেই নিম্নমানের নির্মাণ কাজ করায় কয়েকটি মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোয় দালাল চক্রের উপস্থিতি দুদকের বিভিন্ন অভিযানে প্রমাণিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দালালদের সঙ্গে সংস্থাগুলোর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। নিজ নিজ দফতর দালালমুক্ত রাখার দায়িত্ব স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের। নইলে দালালদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকিং খাত নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট। ব্যাংক তার নিজস্ব বিধি-বিধান অনুসারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করবে। এতে কমিশন কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণা করে ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কমিশনের বক্তব্যও স্পষ্ট। সঠিক দলিলাদি ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে কমিশনের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি করে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার অথবা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া একই কোম্পানি একই বছরে ব্যাংকে এক রকম অডিট রিপোর্ট, এনবিআরে রিটার্ন দাখিলের সময় অন্য রকম অডিট রিপোর্ট, কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জে আরেক রকম রিপোর্ট জমা দেবেন- এসব জাল-জালিয়াতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কমিশন নিয়মিত নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মনিটর করে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ২০১৮ সালেই কমিশনের চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দ- প্রদান করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করা হলে দুর্নীতি-অনিয়ম অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এ ছাড়া কমিশনের জনবল ১০৭৩ থেকে ২১৪৬ করা হয়েছে। এই জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশন দুর্নীতির আঞ্চলিক ব্যাপকতা নির্ণয় করে প্রয়োজনে দুর্নীতি যেসব অঞ্চলে কম সেসব অঞ্চলের অফিস বন্ধ করে দিবে এবং যেসব অঞ্চলে দুর্নীতির ব্যাপকতা বেশি সেসব অঞ্চলে অফিস স্থাপন করা হবে এবং জনবলও বৃদ্ধি করা হবে।


আপনার মন্তব্য