শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫০

আশিয়ানের ধাক্কা তুরাগের চাপা নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

গোপালগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় তিন স্কুলছাত্র নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আশিয়ানের ধাক্কা তুরাগের চাপা নিহত মোটরসাইকেল আরোহী

রাজধানীর সায়েদাবাদে আশিয়ান  পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে আরোহী ওমর ফারুক তুহিন (২৮) তুরাগ পরিবহন বাসের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন মেসার্স কামাল টিম্বার্স স-মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে দুই গাড়িসহ চালকদের গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। বর্তমানে গাড়ি দুটি যাত্রাবাড়ী থানায় জব্দ করে রাখা আছে। তুহিনের মৃত্যুর ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহত তুহিনের মামা আবু নোমান চৌধুরী জানান, তুহিন পান্থপথ এলাকায় একটি বিজ্ঞাপনী কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার শ্যামপুরে। পরিবারের সঙ্গে তিনি উত্তর কুতুবখালীর মসজিদ গলির ২ নম্বর রোডে নিজেদের বাড়িতে থাকতেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তুহিন বড়। তিনি অনেক ভদ্র ও ভালো ছিলেন।

জানা গেছে, তুহিন সকালে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীর বাসা থেকে পান্থপথের অফিসে যাচ্ছিলেন। পথে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে আশিয়ান পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা তুরাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। 

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আহমেদ নওয়াজিশ জানান, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলের সামনে আশিয়ান বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-২৬৮৮) প্রথমে তুহিনের মোটরসাইকেলটিতে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। পরে পেছনে থাকা তুরাগ পরিবহনের বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-১৭২৩) চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তুহিন মারা যান। এ ঘটনায় আশিয়ান বাস চালক সুমন ও তুরাগ পরিবহনের বাস চালক লিটন মিয়াসহ বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম কাজল বলেন, বাস দুটি বেপরোয়া ছিল। তাদের রেষারেষিতে তুহিনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় বাস দুটির চালককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় তিন স্কুলছাত্র নিহত : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ট্রেনের ধাক্কায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী স্কুলছাত্র নিহত হয়েছেন। তারা কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী রেললাইনের বিশ্বনাথপুর রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের নাওরাদোলা গ্রামের ফরিদ শরীফের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াসিন শরীফ (১৮), দশম শ্রেণির ছাত্র জোনাসুর গ্রামের আহাদ তালুকদারের ছেলে সোহান তালুকদার (১৮) ও হিরন্যকান্দি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র আবু রায়হান (১৭)। কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বেলা ১টা ৪০ মিনিটে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া রেল স্টেশন থেকে একটি লোকাল ট্রেন রাজবাড়ী জেলার কালুখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্বনাথপুর রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ওই লোকাল ট্রেনটি তাদের মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটর সাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী ইয়াসিন শরীফ নিহত হয় এবং অন্য দুজন গুরুতর আহত হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহান তালুকদার ও আবু রায়হানকে মৃত ঘোষণা করেন। তাদের লাশ রেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে ওই ওসি জানিয়েছেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী আবিরের ঘাতক গাড়িচালক কারাগারে : পুরান ঢাকার ওয়ারীতে স্কুলছাত্র আবির হোসেনকে চাপা দেওয়া ওয়াসার গাড়িচালককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করে গাড়িচালক চুন্নু মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় স্কুলের বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আবিরসহ কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী উপস্থিত হন ওয়ারী স্ট্রিট সড়ক মোড়ে। জড়ো হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্রুতগতিতে আসা ওয়াসার একটি গাড়ি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে আবিরকে ধাক্কা দেয়। এ সময় পড়ে যায় আবির, পড়ে তার মাথার ওপর দিয়ে গাড়িটি চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবিরের। অবস্থা বেগতিক দেখে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে গাড়িচালক। এ সময় স্থানীয়রা এবং অন্য শিক্ষার্থীরা গাড়িচালক চুন্নু মিয়াকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক করা হয় ঘাতক গাড়িটিও।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, ওয়াসার গাড়িতেই চাপা পড়ে আবিরের মৃত্যু হয়েছে বলে চালক চুন্নু মিয়া স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তি নেওয়ার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালক আবিরকে প্রথমে ধাক্কা দেওয়ার পর থেমে গেলে হয়তো আবির বেঁচে যেত। কিন্তু চালক না থেমে উল্টো তার মাথার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়।  ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল আবির। তার সহপাঠীরা জানায়, নিহত আবিরের বড়ভাই ৮ বছর আগে গুলিস্তান পার্কের ভিতরে পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যায়। ১১ মাস আগে মারা যান আবিরের মা। আবিরের এমন মৃত্যু শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা হানিফ। কিছুক্ষণ পরপরই শোকে মূর্ছা যাচ্ছেন। বলছেন, আমার ছেলের কী দোষ ছিল? পরীক্ষার আগে শেষবারের মতো দেখা করতে গিয়েছিল সে। এ মৃত্যুর জন্য দায়ীর কঠিন বিচার চেয়েছেন তিনি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর