শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৬

আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন

চূড়ান্ত উদঘাটন সালমান রহস্যের

আদালত প্রতিবেদক

চূড়ান্ত উদঘাটন সালমান রহস্যের
সালমান শাহ - শাবনূর

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব

ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআইর পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। এই প্রতিবেদনে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হলেও ঘুরেফিরে বারবার এসেছে নায়িকা শাবনূরের নাম। এ বিষয়ে আদালত পুলিশের নন-জিআর শাখার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আজ (বুধবার) ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহর আদালতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ৩০ মার্চ শুনানি হবে। আদালতে পাঠানো ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও সহনায়িকা শাবনূরের মধ্যে অতিরিক্ত                 ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সালমানের স্ত্রী সামিরা চট্টগ্রামে গেলে নায়িকা শাবনূর দুই দিন সালমান শাহর ফ্ল্যাটে আসেন। এর মধ্যে এক দিন সারা রাত ছিলেন। অন্য দিন রাত ১২টার দিকে চলে যান। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে এসে জানতে পারেন নায়িকা শাবনূর ফ্ল্যাটে এসেছিলেন এবং রাতযাপন করেছেন। সালমানের সঙ্গে শাবনূরের এই অন্তরঙ্গতা নিয়ে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে ব্যাপক দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। সালমান স্ত্রী সামিরাকে খুব ভালোবাসতেন। পাশাপাশি শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এ কারণে দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে সালমান শাহ জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়েন।  এ ছাড়া ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফোন করা নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে নিজ বাসায় সালমান শাহ ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ ছাড়া ১৯৯২ সালের নভেম্বর মাসে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির শুটিংয়ের সময় সামিরার সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে সালমান শাহ স্যাভলন পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে নীলা চৌধুরীর প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত। এক পর্যায়ে সালমান শাহ সামিরাকে নিয়ে আলাদা ফ্ল্যাটে চলে যান। তখন তার মা নীলা চৌধুরীকে প্রতি মাসে হাত খরচ বাবদ এক লাখ টাকা দিতেন।  সংসার জীবনে সালমান শাহ নিঃসন্তান ছিলেন। তাদের ঘনিষ্ঠ ও মামলার সাক্ষী ডলির ছেলে ওমরকে সালমান শাহ সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। ওমর সালমান শাহকে বাবা বলে ডাকত। পরবর্তীতে ডলির ছেলে ওমরকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন সালমান। কিন্তু ডলির জোর আপত্তির কারণে সেটা হয়নি। এই কারণেও সালমান শাহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহতা করেছেন, তার মৃত্যু পরিকল্পিত হত্যা ছিল না মর্মে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। তখন একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে আবেদন করা হয়। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট  সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। ২০১৫ সালের ১০  ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উলেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। মামলাটি এরপর তদন্ত করে র‌্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র‌্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার নির্দেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর