শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৯

পাপিয়া কাহিনিতে সমালোচনা বিব্রত নেতা-নেত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাপিয়া কাহিনিতে সমালোচনা বিব্রত নেতা-নেত্রীরা

যুব মহিলা লীগের নেত্রী পাপিয়া তার গোপন কার্যক্রমের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপস প্রকাশের পর বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যুব মহিলা লীগে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকে প্রশ্ন করছেন, কী করে এই পাপিয়া দলে পদ পেলেন। সে সময় সম্মেলন নরসিংদীতে হলেও কমিটি করা হয়েছে ঢাকায় বসে। জেলার সব নেতা পাপিয়াকে শীর্ষ পদে না চাইলে ঢাকায় বসে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো সুবিধা নিয়ে কিংবা কেন তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো সেই প্রশ্ন এখন উত্থাপিত হচ্ছে। এদিকে অনেকে দাবি তুলেছেন, শুধু নরসিংদী যুব মহিলা লীগই নয়, সারা দেশে এভাবেই কমিটি-বাণিজ্য               করা হয়েছে। কোথায় কোথায় এমনভাবে কমিটি করা হয়েছে তা এখন খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কুকীর্তি বেরিয়ে আসতে পারে। এছাড়া এমন পাপিয়াদের কোথায় কোথায় স্থান দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড খুব সিরিয়াস। প্রয়োজনে যুবলীগকে সম্মেলনের মাধ্যমে যেমন পরিশুদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি যুব মহিলা লীগকেও করা হবে। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধীদের আওয়ামী লীগে স্থান হবে না। তার অপরাধের বিচার হবে। এরই ধারাবাহিকতায় পাপিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই পাপিয়া গ্রেফতার হয়েছেন। আমরা নিজের ঘরের অপরাধীকেও ক্ষমা করছি না।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাপিয়া কাহিনি দলকে চরম বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নেত্রীদেরও ভাবমূর্তি ক্ষু্ণ্ন হয়েছে। সংগঠনের নেত্রীদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নিচ্ছেন দলের হাইকমান্ড।

যুব মহিলা লীগের সূত্র জানিয়েছেন, পাপিয়াকান্ডের পর বেশ বিব্রত অবস্থায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুব মহিলা লীগ। ফলে নড়েচড়ে বসেছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় কমিটি জরুরি বৈঠক ডেকে সারা দেশের যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে।

সংগঠনটির একাধিক নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাপিয়া আটকের পর যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রীরা বৈঠকে বসেন। সেখানে সারা দেশে পাপিয়ার মতো আরও কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কিনা তা খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানানোর জন্য গতকাল দুপুরে গণভবনে গিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি নাজমা আক্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুব মহিলা লীগের এক নেত্রী জানান, পাপিয়ার মতো আরও অনেক নেত্রী রয়েছেন, যারা অপকর্মে লিপ্ত। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে তারা অপকর্ম করে যাচ্ছেন এবং ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়েছেন।

পাপিয়ার মামলা ডিবিতে : অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকার মামলায় গ্রেফতার নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার ১৫ দিনের রিমান্ড চলছে। বিমানবন্দর থানায় করা জাল টাকার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের গতকাল তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে মামলাটি বিমানবন্দর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগে স্থানান্তর হয়েছে। রিমান্ডে পাপিয়া অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এয়ারপোর্ট জোনের এসি খন্দকার রেজাউল হাসান।

মামলার তদন্তভার পাওয়া ডিবি উত্তরের ডিসি মশিউর রহমান জানান, পাপিয়াসহ তার স্বামীকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার পাপিয়া ও তার স্বামীসহ চারজনকে শাহজালাল বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের ৬ নম্বর গেটের কাছ থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর তাদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর ও বিমানবন্দর থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়। সোমবার ওই মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ওরফে সুমন চৌধুরীকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর