শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৭

আসামি ধরেই কেন মিডিয়ার সামনে প্রশ্ন হাই কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসামি কিংবা অভিযুক্তকে গ্রেফতার বা আটকের পর বিচার শেষ হওয়ার আগেই কেন মিডিয়ার সামনে আনা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রী জীবিত থাকার পরও তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে এমন প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়। পরে আদেশের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে আদালত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে  ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। দুই তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে হাই কোর্ট বলে, আসামিদের গ্রেফতারের পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করে। তখন ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে আনা বিচারককে প্রভাবিত করার সমান। বিচার শেষ হওয়ার আগেই এভাবে ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করা হয়, তা কি ঠিক? কোনো বিষয়ে তদন্ত চলার পর রিপোর্ট দেওয়ার আগেই ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিডিয়ার সামনে কথা বলে, যা অনুচিত। তখন সাংবাদিকরা কী করবেন? তারা এসব ঘটনা পেলে তো লিখবেনই। আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আসামির জবানবন্দি গ্রহণের সময় আইনজীবীরা উপস্থিত থাকেন কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমে নেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি গ্রহণের সময় আইনজীবীর উপস্থিত থাকা উচিত। শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার আদেশের দিন নির্ধারণ করে। নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায়-সংক্রান্ত জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে করা আবেদনের (রিভিশন) ওপর শুনানি হয় ২৭ আগস্ট। এরপর ওই দিনই বিচারিক আদালতের সব রেকর্ড ও মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছিলেন হাই কোর্ট। তলবের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুই তদন্ত কর্মকর্তা হাই কোর্টে উপস্থিত হন। ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী দিশা নিখোঁজ হয়। ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আবদুল্লাহ, রকিব ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট দিশাকে খুঁজে পাওয়া যায়। সে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এর পরই প্রশ্ন দেখা দেয়, আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিল। জীবিত থাকার পরও নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায়-সংক্রান্ত সদর থানার কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্নে হাই কোর্টে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর