শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৩

একনেকে ৭ প্রকল্প অনুমোদন

করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেশে আসার পর মজুদ, সরবরাহ ও সঠিকভাবে বিতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম এ কথা জানান। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা সচিব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানিয়ে বলেন, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সঠিক তাপমাত্রায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে তিনি কোল্ড চেইন ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে বলেছেন। সেই সঙ্গে টিকা কর্মসূচি পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। চলমান কাজ শেষ করে পরে কাজ পাবে ঠিকাদার : চলমান কাজ শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী কাজ পাবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের অনেক প্রকল্পে বিশেষত নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ হলো এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজ সময় মতো শেষ করেছে কিনা, কোন সময় শেষ করেছে- এসবের একটা তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এর দুটি উদ্দেশ্য; একটা হলো আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণকাজের জন্য মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। দ্বিতীয়ত সময় মতো আমাদের নির্মাণকাজ শেষ হবে। সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব আরও বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লং ড্রাইভ করেন বা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় থাকেন তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্যান্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস ‘(আইডিইএ)-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। এনআইডি রেজিস্ট্রেশন, সবার আইডেন্টিটি যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোটার তালিকা নয়, যেখানে এ কাজটা সমন্বিত হয়, সবার জন্য সুবিধার হয় এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সে রকম একটা প্রতিষ্ঠানে এটা ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন।

একনেকে ১০ হাজার ৭০২ কোটি খরচে ৭ প্রকল্প অনুমোদন : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০ হাজার ৭০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা খরচে ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সরকার দেবে ৬ হাজার ৪৫৯ কোটি ২৭ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ৪ হাজার ২৪২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা।

ঘাস চাষের প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানোর নির্দেশ : ঘাস চাষ প্রশিক্ষণ নিয়ে একনেকে কী আলোচনা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, ঘাস চাষ প্রশিক্ষণে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গণমাধ্যম এ নিয়ে রিপোর্টও করেছে। রিপোর্টের বিষয়গুলো আমলে নিয়ে ঘাস চাষ প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া আমরা দেখেছি অনেকে প্রশিক্ষণের আওতায় ঢুকে পড়েছেন। যারা সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন শুধু তারাই প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর