শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৩

কুয়েতে পার পাচ্ছেন না এমপি পাপুল

হাই কোর্টে জামিন আবেদন স্ত্রী শ্যালিকা ও মেয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুয়েতে পার পাচ্ছেন না এমপি পাপুল

মানব ও অর্থ পাচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগে কুয়েতে এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে করা মামলায় আগামী ২৮ জানুয়ারি রায়ের দিন ঠিক করেছে সে দেশের আদালত। রায়ে তার খালাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন কুয়েতের আইনজীবীরা। কারণ মানব ও মুদ্রা পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত সরকারের অবস্থান বেশ কঠোর। কুয়েতের মানব পাচারবিরোধী আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছর শাস্তির বিধান রয়েছে।

গালফ নিউজের গত বুধবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি কুয়েতের একটি আপিল আদালত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্নেল এবং মিসরের তিন নাগরিককে তিন বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে। আর কুয়েতের আইন অনুযায়ী অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৫০ হাজার কুয়েতি দিনার থেকে ১০ লাখ কুয়েতি দিনার (এক দিনারে ২৭৫ টাকা ৫০ পয়সা) জরিমানার বিধান রয়েছে। একই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড হতে পারে। এদিকে, এমপি পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, বৃহস্পতিবার দুটি জামিনের আবেদন পেয়েছি। একটিতে সেলিনা ইসলাম ও তার মেয়ের আবেদন। অপরটিতে সেলিনা ইসলামের বোন জেসমিন প্রধানের আবেদন।

পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর তিনিসহ তার স্ত্রী এমপি সেলিনা, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়। মামলায় জেসমিনের বিষয়ে বলা হয়, তিনি শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় বোন সেলিনা ইসলাম ও দুলাভাই শহীদ ইসলাম পাপুলের অবৈধ অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করে বৈধতায় রূপ দিতে ‘লীলাবালি’ নাচের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২২ জুলাই সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। গত ৬ জুন রাতে কুয়েত সিটির বাসা থেকে দেশটির গোয়েন্দারা এমপি শহীদ ইসলামকে গ্রেফতার করেন। পরে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।


আপনার মন্তব্য