শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০২১ ২৩:২৩

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনাতেই আগামী প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নেবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনাতেই আগামী প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নেবে
গণভবনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাতেই আগামী প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গতকাল সকালে গণভবনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে নয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, একটি রেপ্লিকা ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লক্ষ্য স্থির থাকলে এগিয়ে চলা সম্ভব। সেজন্য যতটুকু আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি এতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারাই আসবে তারা যেন উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি কাঠামো করে দিয়ে যাচ্ছি, যাকে ধরে আগামী প্রজন্ম দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত কী করণীয়, স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্যাপনকালে ২০৭১ সালে বাংলাদেশ কোথায় যাবে বা ২১০০ সালে এ ব-দ্বীপ অঞ্চলের বাসিন্দারা যেন এক সুন্দর জীবন পেতে পারে তারও একটা পরিকল্পনা করে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কাঠামোটা সময়ের বিবর্তনে পরিবর্তনশীল। কারণ যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই  সবাইকে চলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের বিকাশ, নতুন নতুন উদ্ভাবন আমাদের নতুন করে পথ দেখাবে। যার সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীন জাতি, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কাজেই আমরা সব সময় বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলব। কারও কাছে হাত পেতে না, করুণা ভিক্ষা করে না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। আমি জানি না একটা স্বাধীন জাতি বা স্বাধীন দেশের নাগরিক যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে তারা কীভাবে আবার পরাজিত শক্তির পদলেহন করতে পারে। এটা আমি ভাবতেও পারি না। কিন্তু সে অবস্থাতেই বাংলাদেশকে কিন্তু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার সব ধরনের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। জাতির পিতাকে হত্যার পর এমন একটা সময় ছিল যখন কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেছে এ কথা বলার সাহস পেত না। তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) দল (আওয়ামী লীগ) যখন সরকারে এসেছে মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো সম্মান ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। পুরস্কার পাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুসরণ করে তরুণ প্রজন্মকে জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্‌বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমি এটাই চাই যে আপনাদের (পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ) পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। স্ব স্ব কর্মস্থানে তারা নিশ্চয়ই তাদের মেধা-মননে যোগ্য একটা অবস্থান করে নেবে এবং দেশ ও জাতির জন্য তারা কিছু অবদান রেখে যাবে। অন্তত আপনাদের কাছ থেকে তারা উৎসাহ পাবে। দেশের জন্য, জাতির জন্য, জাতির কল্যাণের জন্য তারা কাজ করবে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো আমিও বিশ্বাস করি আমার দেশের মানুষ, দেশের মাটির এটাই বড় শক্তি। আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন ইতিহাস জানতে চায়, শিকড়ের সন্ধান করে। বিজয়ের কথা চিন্তা করে নিজেদের গর্বিত মনে করে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি বাবা-মা, ভাই হারিয়ে রিফিউজি হিসেবে থাকার কষ্ট। আর মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছেন তারা সবকিছু ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তাদের পরিবার-পরিজনও নানাভাবে কষ্ট পেয়েছে। তাই তারা বংশপরম্পরায় যেন সম্মানটা পায় সেজন্য আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যতটুকু সম্ভব আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাদের সে সম্মানটা দিতে এবং যারা এখনো কষ্টের মধ্যে আছে তাদের কিছু সহযোগিতার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা যেন এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য সবাই দোয়া করবেন এবং কাজও করবেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন ও এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি হাতে গোনা কয়েকজনকে পুরস্কার দিতে পেরেছি। কিন্তু এখনো আমাদের সমাজে অনেকে আছেন যাদের পুরস্কার দেওয়া উচিত। কারণ তারা সমাজের বহু ক্ষেত্রে অনেক অবদান রেখে যাচ্ছেন। তাদের পুরস্কুত করা মানে জাতিকে পুরস্কৃত করা, নিজেদের পুরস্কৃত করা। শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে, নিজ নিজ কর্মস্থানে তারা নিশ্চয়ই মেধা-মনন কাজে লাগিয়ে যোগ্য একটা অবস্থান করে নেবে এবং দেশ ও জাতির জন্য তারা কিছু অবদান রেখে যাবে। সেটাই আমরা চাই।

যাঁরা পুরস্কার পেলেন : এ বছর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য চারজন পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন মরহুম এ কে এম বজলুর রহমান, প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদ ও মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী। সাহিত্যে কবি মহাদেব সাহা। সংস্কৃতিতে নাট্যজন আতাউর রহমান ও সুরকার-গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ‘সমাজসেবা/জনসেবা’ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। মরহুম বজলুর রহমানের পক্ষে তাঁর স্ত্রী শাহানারা বেগম, আহসান উল্লাহ মাস্টারের পক্ষে তাঁর ছেলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশিদ উদ্দিন আহমেদের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পক্ষে তাঁর ছেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী পুরস্কার গ্রহণ করেন। জীবিতদের মধ্যে কবি মহাদেব সাহার অনুপস্থিতিতে তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন। ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী, আতাউর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং ড. আমজাদ হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে পুরস্কার নেন। কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পুরস্কার গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এ পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং তিনিই পুরস্কার বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আতাউর রহমান নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।