শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

ডাকাত সন্দেহে তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জ ও আড়াইহাজার প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাত সন্দেহে তিন যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই তিনজনকে হত্যা করে লাশ উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের ইলমদী বেনজীরবাগ এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। গতকাল ভোরে ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলো উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাদের তিনজনকে ভোর ৬টার মধ্যে কোনো এক সময়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে ছিনতাই করতে গিয়ে এরা নিহত হয়েছে। কিন্তু নিহতদের স্বজনদের দাবি, তারা লেগুনাচালক এবং ভালো মানুষ।

নিহতরা হলেন জেলার সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল বৌবাজার গ্রামে সিরাজুলের ছেলে  মফিজুল (২৬), একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল জেসনু (২৭) এবং আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের মোসলেমের ছেলে নবী হোসেন (৩০)। তবে কে বা কারা তাদের হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাম দস্তগীর প্রিন্স তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী তাদের ‘ডাকাত’ বলে চিহ্নিত করলেও পরে নিহতদের স্বজনেরা এসে লাশগুলো শনাক্ত করেন এবং তারা ভালো লোক বলে দাবি করেন। তারা জানান, নিহত নবী হোসেন ও মফিজুল পেশায় লেগুনাচালক এবং জহিরুল ওরফে জেসনু লেগুনার মালিক। তারা লেগুনা দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করতেন। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘হাইজাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ভূঁইয়া ভোর সোয়া ৬টায় আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছেন যে তার এলাকায় তিনজনকে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে দুজনকে মৃত এবং একজনকে আহত অবস্থা পাওয়া যায়। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।’ তিনি বলেন, এর আগে ভোর ৫টার দিকে রূপগঞ্জে অবস্থিত ফকির ফ্যাশনের শ্রমিকবাহী একটি মিনিবাস আড়াইহাজার উপজেলার সিংহদী এলাকায় আটক করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে এরা। পরে গার্মেন্ট শ্রমিকরা এদের আটক করে ইলমদী বাজারে নিয়ে আসে। এই শ্রমিকদের কাছ থেকে আটকদের ছিনিয়ে নিয়ে এলাকাবাসী ইলমদী বেনজীরবাগে নিয়ে তাদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। তবে এলাকাবাসী বলছেন, শ্রমিকরা আগেই এদের মেরে ফেলেছেন। ওসি জানান, নিহত জহিরুলের নামে কোনো মামলা নেই। তবে মফিজুল ও নবী হোসেনের নামে সোনারগাঁ থানায় একটি চুরির মামলা রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, যে এলাকায় তাদের লাশ পাওয়া গেছে সেখানে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে কোথাও কোনো ডাকাতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। নিহত মফিজুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মফিজুল ভোর ৪টার দিকে ইলমদী এলাকার শ্রমিক নেওয়ার জন্য গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তার সঙ্গে লেগুনার মালিক জহিরুল জেসনুও আসেন। সকালে আমরা তার হত্যার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসে লাশ শনাক্ত করি। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’ নিহত জহিরুলের বন্ধু গোলজার বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে গাড়ির ব্যবসা করি। সে (জহিরুল) খারাপ না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ হাইজাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। নিহতরা ডাকাত কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত নই।’ নিহত জহিরুলের বোন হেলেনা জানান, তার ভাই এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বিদেশ চলে যান। বিদেশ থেকে এসে ছয় মাস আগে একটি লেগুনা কেনেন। তার ভাই ডাকাত নন। নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত লেগুনা গাড়ি দুটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। ওসি জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। স্বজনরা মামলা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর