শিশু যৌনতা, নাবালক-নাবালিকা ধর্ষণ। এভাবে শিশু নিগ্রহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নারী পাচারের একের পর এক ভিডিও। ভারতে লকডাউনকালেও এরকম ন্যক্কারজনক ঘটনা ফুলে ফেঁপে ওঠার জন্য এই দুই বিষয়কেই ঢাল করেছে জনপ্রিয় পর্ন ওয়েবসাইট 'পর্নহাব'। আর তা নিয়ে বিগত কিছু দিন ধরেই পর্নহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছেন নানামহলের মানুষজন। এবার সরব হলেন ভারতের নারীপাচার বিরোধী এক্সপার্ট লায়লা মিকেলওয়েট।
খুব সম্প্রতি জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইট চিরতরে নিষিদ্ধ করতে একটি পিটিশনের মাধ্যমে পর্নহাব বিরোধী মানুষজনের সই সংগ্রহ করা শুরু করেছেন লায়লা। সেই পিটিশনে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ সমর্থন করেছেন। পিটিশনে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং সবথেকে জনপ্রিয় পর্ন সাইট পর্নহাব, দিনের পর দিন শিশু ধর্ষণ, নারী পাচার এবং শিশু ও নারীদের অপরাধমূলক একাধিক ভিডিও প্রকাশ করার মধ্যে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। আমরা এই পর্নহাব চিরকালের মতো বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশিই এই অপরাধের জন্য যারা দায়ী, তাদেরও উচিত শিক্ষা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
পিটিশনে আদশে 'পর্নহাব'-এর অসৎ উদ্দেশ্যের সবরকম কারিকুরি ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। যৌন পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ, এক অপহৃত নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভিডিয়ো পোস্টসহ একাধিক উদাহরণ উদ্ধৃত করা হয়েছে লায়লা মিকেলওয়েটের ওই পিটিশনে।
"১৫ বছরের একটি মেয়ে বহু দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর তার মা তাকে খুঁজে পান, পর্নহাব-এরই একটি ভিডিওর মাধ্যমে। এমনই কমপক্ষে ৫৮টি ধর্ষণ এবং শারীরিক হেনস্থার ভিডিও দেখানো হয়েছে পর্নহাব-এ। পাচারকারীকেই দেখা যাচ্ছে ১৫ বছরের মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে। একটি নজরদারির ভিডিও ফুটেজের মারফত এই তথ্য আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে", প্রমাণ সাপেক্ষে পিটিশনে তুলে ধরা হয়েছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জঘন্য পলিসির জনক 'পর্নহাব'-কে নিন্দা করে পিটিশনে আরও বলা হচ্ছে, "মিলিয়নের পর মিলিয়ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ রোজগার করছে এই পর্নসাইট। এই সাইট কমপক্ষে ৪২ বিলিয়ন মানুষ ভিজিট করেন। প্রতি বছর কমপক্ষে ৬ মিলিয়ন ভিডিও এই পর্নসাইটে আপলোড করা হয়। কিন্তু এত কিছু করার পরেও বয়সের মাপকাঠি ধার্য করার কোনও সিস্টেম নেই পর্নহাবে। কারও অনুমতি ছাড়াই এই ধরনের নিম্নরুচির, জঘন্য এবং ন্যক্কারজনক ভিডিও দিনের পর দিন আপলোড করেই চলেছে পর্নহাব।"
সূত্র : এই সময়।
বিডি-প্রতিদিন/শফিক