শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৬

তীব্রতর ভারতের কৃষক আন্দোলন

অনশনে যোগ দিলেন কেজরিওয়াল

কলকাতা প্রতিনিধি

তীব্রতর ভারতের কৃষক আন্দোলন

কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে উত্তাল ভারত। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনশনের ডাক দিয়েছেন দেশটির আন্দোলনরত কৃষকরা। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই অনশন পালন করে আন্দোলনকারীরা। এদিকে, কৃষকদের অনশনে যোগ দেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আম আদমি পার্টির স্বেচ্ছাসেবকদেরও আমি অনশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের উচিত দ্রুত কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়া এবং সর্বনিম্ন সহায়ক দাম (এমএসপি) নির্ধারণে বিল পাস করা।’ উল্লেখ্য, গত ১৮ দিন ধরে দিল্লি সীমানা অবরোধ করে বসে রয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা। কিন্তু ভারত সরকার এখনো কৃষকদের দাবিতে সাড়া দেয়নি। এ অবস্থায় বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের প্রধানরা গতকাল একদিনের অনশন ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেন। গতকাল কেজরিওয়ালের সঙ্গেই অনশনে শামিল হন দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া। ট্যুইট করে এদিন তিনি লেখেন ‘উপবাস করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। আপনারা যে যেখানেই থাকুন না কেন দয়া করে আমাদের কৃষক ভাইদের সমর্থনে উপবাস শুরু করুন। তাদের এই আন্দোলনের সাফল্য কামনায় দোয়া করুন। তারা নিশ্চয়ই জয় পাবে।’

অনশনে বসায় কেজরিওয়ালের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। ‘এটাই হল কেজরিওয়াল প্রতারণা। পাঞ্জাব বিধানসভার নির্বাচনে কেজরিওয়াল এগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেট কমিটি (এপিএমসি) সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গত নভেম্বরে আপনি কৃষি আইন নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন অথচ আজ আপনি অনশনে বসেছেন।’ এদিন সকালে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের গাজীপুর এলাকায় ২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারী কৃষকরা। এর ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। ইতিমধ্যেই আপ’এর মতো কংগ্রেস তৃণমূল, বসপা, সপা, সিপিআইএমসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল কৃষকদের এই আন্দোলনকে আগেই সমর্থন জানিয়েছে। রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, অখিলেশ যাদবের মতো নেতারা নতুন কৃষি আইনকে ‘কালা আইন’ বলে অভিহীত করে তা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন। তবে কৃষকরা যখন তাদের আন্দোলন তীব্রতর করছে তখন কৃষক সংগঠনের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের আভাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী কৈলাস চৌধুরী। তাঁর অভিমত সবাই মিলে বৈঠকে বসলেই সমস্যার সমাধান মিলবে। এখনো পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পঞ্চম দফার বৈঠক হলেও সমাধান সূত্র অধরা।


আপনার মন্তব্য