Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০১৯ ১৪:৪৮

লোকসভা নির্বাচন; দিল্লির 'কিং মেকার'র হতে পারেন মমতা!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

লোকসভা নির্বাচন; দিল্লির 'কিং মেকার'র হতে পারেন মমতা!
ফাইল ছবি

প্রায় একদশক আগেকার কথা। শক্তিশালী বামফ্রন্ট সরকারকে তোয়াক্কা না করে যখন নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলনে মেঠো পথে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন-তখনও তিনি জানতেন না তিনি ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন। এরপর ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের বাম সরকারকে উৎখাত করেছিলেন তিনি।

আজ এতদিন পর ফের একবার ইতিহাসের দোরগোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জাতীয় রাজনীতিতে 'কিং মেকার'র ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জিকে।

এইমুহূর্তে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি বিরোধী মুখের অন্যতম হলেন মমতা। কেন্দ্র থেকে মোদি সরকারকে হঠাতে গত জানুয়ারী মাসেই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানের তার ডাকে সারা দিয়েই ২৩ টি অ-বিজেপি রাজনৈতিক দল এক মঞ্চে হাজির হয়েছিল। এরপর দিল্লিতে চন্দ্রবাবু নাইডু এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল-এর ধরনা মঞ্চে উপস্থিত থেকে মোদি বিরোধী সুর চড়িয়েছিলেন।

এব্যাপারে বিদায়ী লোকসভার তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতার ব্যানার্জির নেতৃত্বে আমরা কেন্দ্রে নতুন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবো। নরেন্দ্র মোদির ভয়ের পরিবেশ থেকে বাঁচতে দেশের মানুষ এখন মমতা এবং তৃণমূলের দিকে তাকিয়ে আছে।’

২০০৭-০৮ সালে নন্দীগ্রাম ও সিন্দুর আন্দোলন, বামেদের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই থেকে নবান্নে ক্ষমতার আসনে বসাটা যতটা চিত্তাকর্ষক ছিল তার জন্য তাকে মূল্যও কম দিতে হয়নি। যদিও ৬৪ বছর বয়সী মমতার রাজনীতিতে হুল ফোঁটানো শুরু হয়েছিল ছাত্র জীবনে যুব কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে। এরপর সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে সাংসদ, ইউপিএ এবং এনডিএ জোট সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং শেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালে তার হাত ধরেই তৈরি হয় তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০১ সালে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তার দল। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ৬০ আসন পেয়েই সেবার সারা ফেলে দিয়েছিল। বামদের দখলে গিয়েছিল ১৯২ টি আসন। কিন্তু ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে মাত্র ৩০ টি আসনে জেতে তৃণমূল, অন্যদিকে ২১৯ আসন পেয়ে সরকার গড়ে বামরা। আর এর পরের চারবছর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনের প্রভাব পড়ে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। ১৮৪ টি আসন নিয়ে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যটিতে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস, বামেরা তখন পায় ৬০ টি আসন। আর শেষবার ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ২১১ টি আসন পায় তৃণমূল, অন্যদিকে শক্তি কমে গিয়ে মাত্র ৩২ টি আসন পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বামদের। এমনকি কংগ্রেসের (৪৪) কাছে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা হারাতে হয়।

বর্তমানে লোকসভা আসনের দিক থেকে বিজেপি ও কংগ্রেসের পরই তৃতীয় স্থানে রয়েছে তৃণমূল। তাদের সংসদ সদস্য ৩৪ জন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই তৃণমূলের আরেক সিনিয়র সাংসদের অভিমত ‘জাতীয় রাজনীতিতে দলের জায়গা করে নেওয়ার এটাই সেরা সময়। দেশে যখন কংগ্রেসের রাজনৈতিক ওজন কমছে এবং কংগ্রেসের একার পক্ষে যখন বিজেপিকে ঠেকানোর মতো জায়গায় নেই-সেখানে তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন আঞ্চলিক দলগুলি দিল্লিতে ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং রাজ্যে যদি একাধিক আসনে আমরা জয় পাই সেক্ষেত্রে আগামী সরকার গঠনে আমরাই (তৃণমূল) প্রধান ভূমিকা নেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং ওই পদে আমরাও অন্যতম দাবিদার। আমাদের দলনেত্রী যিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে।’

তবে ক্ষমতার ভেতরেই আবার চোরা গর্তও রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। আর তৃণমূলও তার ব্যক্তিক্রম নয়। এ সুযোগ নিয়েই এরাজ্যে বিজেপি তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। তৃণমূলের অনেক নেতাই ইতিমধ্যে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। এমনকি সম্প্রতি তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূলের এক প্রভাবশালী বিধায়ক। কেউ কেউ আবার শেষমুহূর্ত পর্যন্ত পানি মেপে দেখে নিতে চাইছেন।

যা দেখে বিরোধীরা বলছে মমতা বা তৃণমূলের দিল্লির স্বপ্ন পূরণ হওয়ার নয়। কংগ্রেস-সিপিআইএম-কে পিছনে ফেলে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে নিজেদের জায়গা শক্ত করে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। তাদের মতে তৃণমূল নেত্রী তাঁর জমি হারাচ্ছেন। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে মমতা ব্যানার্জির উচিত তার ঘরকে সামলানো, কারণ তিনি তার জমি হারাচ্ছেন এবং বাংলার মানুষ এখন তার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইছে’।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য