শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ মার্চ, ২০২১ ২২:২৪
প্রিন্ট করুন printer

মমতার প্রতিপক্ষ সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

মমতার প্রতিপক্ষ সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু
মমতা ব্যানার্জি ও শুভেন্দু। (ফাইল ছবি)

মমতা ব্যনার্জি বনাম শুভেন্দু অধিকারী। একজন রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী, অন্যজন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী, মমতারই একসময়ের ছায়াসঙ্গী তথা বিজেপি নেতা। পশ্চিমবঙ্গের ‘নন্দীগ্রাম’ বিধানসভা কেন্দ্রে এই দুই নেতা-নেত্রীর লড়াই হাইভোল্টেজ লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছে গোটা রাজ্য তথা দেশবাসী। 

জল্পনা ছিলই। নন্দীগ্রামে যে মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াই হতে চলেছে তা বোঝা গিয়েছিল কয়েকদিন আগেই। গত ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সভায় দাঁড়িয়ে মমতা ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে চান। পাল্টা শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন তিনি নিজে প্রার্থী হলে মমতাকে তিনি নন্দীগ্রামে ৫০ হাজার ভোটে হারাবেন। অন্য কেউ হলেও ওই সমপরিমাণ ভোটে হারাবেন। 
এরপর গতকাল শুক্রবার রাজ্যটির (মোট আসন ২৯৪) ২৯১টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেয়ার সময় মমতা বলেন ‘আমি কথা দিয়ে কথা রাখি। নন্দীগ্রামে আমিই লড়ছি।’ 

যদিও প্রথমে নন্দীগ্রামের সাথেই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও একুশের নির্বাচনে লড়াই করার কথা ছিল মমতার। কিন্তু পরে ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জির হাতে ছেড়ে দিয়ে কেবলমাত্র নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। 

শোনা যায়, ভবানীপুর আসন না লড়ার পিছনে রয়েছে অন্য কারণ কারণ ২০১৬ সালের বিধানসভার নির্বাচনে এখানে ২৯ শতাংশ ভোট খুঁইয়েছিলেন মমতা। ২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের নিরিখে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড ছিল মাত্র ৩৫০০ ভোট।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার একদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের প্রথম দুই দফায় ৬০টি বিধানসভার আসনের মধ্যে ৫৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা দেয় বিজেপি। এদিন সন্ধ্যায় দিল্লি থেকে ৫৭টি আসনের জন্য বিজেপির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং। এর মধ্যে গোটা রাজ্য তথা দেশের নজর ছিল হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ‘নন্দীগ্রাম’। সেই ‘নন্দীগ্রাম’ কেন্দ্রে বিজেপির তুরুপের তাস শুভেন্দু অধিকারী। 

শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত ‘নন্দীগ্রাম’। ২০১১ সালে এই শুভেন্দুকে সাথী করেই নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলন গড়ে তুলেছেন মমতা। আর তার ওপর ভিত্তি করেই ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৬ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম আসনে জিতেছিলেন শুভেন্দু। প্রথমে সংসদ সদস্য থাকলেও পরবর্তীতে শুভেন্দুকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। ধীরে ধীরে মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক হয়ে ওঠেন। যদিও শেষদিকে মমতা-শুভেন্দুর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। শোনা যায় এর পিছনে রয়েছেন মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যনার্জি। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। আর এরপরই গত প্রায় তিন মাস ধরে মমতা-অভিষেককে লাগাতার নিশানা চালিয়ে আসছেন শুভেন্দু। 

সূত্রে খবর, বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তার পাশে দাঁড়ান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নন্দীগ্রাম থেকেও ইতিবাচক রিপোর্ট আসে বিজেপির হাতে। এরপরই হাই ভোল্টেজ কেন্দ্রে শুভেন্দুর নামে সিলমোহর পড়ে। নাম ঘোষনার পরই এদিন শুভেন্দু জানান ‘কেবলমাত্র নন্দীগ্রাম থেকেই প্রতিযোগিতা নয়। লড়াই টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বাংলায় প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বইছে। এখানে কোন উন্নয়ন নেই, শিল্প নেই। বাংলার মানুষ, নন্দীগ্রামের মানুষ পরিবর্তন চায়।’ নিজের জয়ের ব্যাপারে ২০০ শতাংশ আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

আজ মমতা-শুভেন্দু উভয়েরই রাজনৈতিক দল আলাদা, মতাদর্শ আলাদা। শুভেন্দুর নতুন করে রাজনৈতিক জমি শক্ত করার লড়াই। অন্যদিকে মমতার সামনে চ্যালেঞ্জ নিজের উত্থানের জমিতে তৃণমূলের আধিপত্য ধরে রাখা। 

এদিন বিজেপির ৫৭ জনের প্রার্থী তালিকায় একাধিক হেভিওয়েট নাম রয়েছে। যার মধ্যে ডেবরা কেন্দ্রে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা ভারতী ঘোষ, ময়না কেন্দ্রে সাবেক ক্রিকেটার অশোদ দিন্দা। 

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর