শিরোনাম
শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
ঐতিহ্য

রেলের ঐতিহ্য জগতি স্টেশন

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

রেলের ঐতিহ্য জগতি স্টেশন

রেলের ইতিহাসে কালের সাক্ষী হয়ে আছে কুষ্টিয়ার জগতি স্টেশন। এটিই এদেশের প্রথম রেল স্টেশন। ব্রিটিশ আমলে কলকাতার শিয়ালদহ থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাতায়াতে ১৮৬২ সালে এ স্টেশনটি চালু করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ১৮৪৪ সালে আর. এম স্টিফেনসন কলকাতার কাছে   হাওড়া থেকে পশ্চিম বাংলার কয়লাখনি সমৃদ্ধ রানীগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানি ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু করে। এরপর ১৮৬২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রাণাঘাট পর্যন্ত রেলপথ চালু করে। এই লাইনকেই বর্ধিত করে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩.১১ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন শাখা উন্মোচন করা হয়। সে সময়ই প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ববঙ্গের প্রথম রেল স্টেশন জগতি। পরে ঢাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি জগতি থেকে বর্তমান রাজবাড়ী জেলার পদ্মানদী তীরবর্তী গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত রেললাইন চালু করা হয়। সে সময় মানুষ কলকাতা থেকে ট্রেন করে জগতি স্টেশন হয়ে গোয়ালন্দঘাটে যেতেন। সেখান থেকে স্টিমারে পদ্মানদী পেরিয়ে চলে যেতেন ঢাকায়। কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে দেশের সেই প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি। পাকিস্তান আমলে কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে আখ পরিবহনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এ স্টেশন। কুষ্টিয়ার আশপাশের জেলাগুলোর জন্য ট্রেনে করে আনা খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীও খালাস হতো এই জগতি স্টেশনে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ ‘সেই রামও নেই, সেই অযধ্যাও নেই’ অবস্থা হয়েছে ইতিহাস খ্যাত জগতি রেলওয়ে স্টেশনের। লোকবল সংকট আর প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে স্টেশনটি। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভবনগুলো আজ ধ্বংস প্রায়। কুষ্টিয়া স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ইসমাইল হোসেন শেখ জানান, জগতি স্টেশনে একজন টিকিট মাস্টার, দুজন সহকারী টিকিট মাস্টার, ছয়জন পয়েন্টম্যান, দুজন পোর্টার ও তিনজন গেটম্যানের পদ রয়েছে। বর্তমানে ওই স্টেশনে দুজন গেটম্যান ছাড়া আর কোনো কর্মচারী নেই। রাত নামলেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা জমে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে জগতি স্টেশনের খালি জায়গা জুড়ে পাথর রেখেছে। এতে স্টেশনের সার্বিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। তারা এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। রেল স্টেশনটির ভবনগুলো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতীক এই স্টেশনটিকে টিকিয়ে রাখার দাবি তাদের।

সর্বশেষ খবর