মঙ্গলবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা

কৃষি সংবাদ

খেতের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

নওগাঁ প্রতিনিধি

খেতের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষকদের কাছে ধানে আক্রান্ত পোকামাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম আলোক ফাঁদ। দিন দিন উপজেলার কৃষকরা এই কৃষিবান্ধব পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বর্তমানে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আমন ফসলের খেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি বর্তমানে কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আমন ধানের খেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপর আলো জ্বেলে ধানে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন পোকা ধরছেন।

কৃষকরা নিজেই জমিতে এই পোকাগুলোর উপস্থিতি দেখে ধান খেতে পোকার আক্রমণের আগেই কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা খুব সহজেই নিরূপণ করতে পারছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা নিজেই তাদের আমন খেতে কোন ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রয়োগ করতে পারছেন।

এতে পোকার আক্রমণের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন উপজেলার কৃষকরা। এই আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে এলাকার অনেক কৃষক বর্তমানে খুব কম ওষুধ ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার সব উপজেলায় ধান খেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে একযোগে এক সন্ধ্যায় এই আলোক ফাঁদ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বাবু প্রমুখ। এবার আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণায় কৃষকরা বর্তমানে এই ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক লোকমান, জিসারুল, সিরাজ ও কাশিমপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, সালাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নান জানান, আমরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছি। সহজলভ্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই খেতের পোকামাকড়গুলো নিধন করতে পারছেন। পোকামাকড়গুলোর উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। এটা পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের খেতে পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। কৃষকরা যদি এই পদ্ধতিটি আমন মৌসুমে অব্যাহত রাখেন তাহলে তাদের ধান উৎপাদনে খরচ কম হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।