Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:১৫

অন্যরকম সোমেশ্বরী

জীবিকার নতুন ক্ষেত্র

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

অন্যরকম সোমেশ্বরী

নেত্রকোনায় সোমেশ্বরীর বুকে ভাসছে পাহাড়ি কয়লা। ঢলের পানির সঙ্গে মেঘালয় থেকে ভেসে আসা কয়লা যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন ইটভাটায়। আর এ কয়লা তুলে হাজারো নারী-পুরুষ প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহ করে। বর্ষাকাল জুড়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে পাহাড়ি ঢলের সময় এসব কয়লা আসা শুরু হয়। থাকে কয়েক মাস। কয়লা শ্রমিকের পাশাপাশি মহাজনরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে ভেসে আসছে কয়লা। আর ভারতের কোয়ারি থেকে ভেসে আসা কয়লা উত্তোলন করছে পাহাড়ি জনপদের দরিদ্র মানুষ। শুধু কয়লা কুড়িয়েই জীবিকা নির্বাহ করছে এখানকার কয়েকশ পরিবার। এসব কয়লা ব্যবহার হচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাসহ দেশের বিভিন্ন ভাটায়। দিনভর পানিতে ডুবে রোদে পুড়ে বিস্তীর্ণ চরে কয়লা তুলছেন স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ ছোট বড় নানা বয়সী মানুষ। আর এ কয়লা দেড় থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। যা দিয়ে তাদের কোনো রকমে সংসার চলে। তবে এ ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন মহাজনরাও। শ্রমিকদের থেকে অল্প দামে কেনা কয়লা প্রক্রিয়াজাত করে অধিক দামে বিক্রি করে বেশ মুনাফা অর্জন করছেন। এখান থেকে প্রতিদিনই দুই থেকে তিনশ টন কয়লা পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি সোমেশ্বরীর পাড়ে প্রতিদিন তেরীবাজার ঘাটে এসব কয়লা বেচাকেনা হয়। মণপ্রতি ১৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৪২০ টাকা পর্যন্ত দাম হয়। কয়লা ভেজা থাকায় প্রতি ৫ কেজিতে এক কেজি বেশি দিতে হয়। বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ১২০ থেকে ১৫০টি ছোট ছোট নৌকা কয়লা তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়। এক এক নৌকায় ২ থেকে ৫ জন করে শ্রমিক কাজ করে। প্রতি নৌকায় ৬ থেকে ৮ মণ কয়লা ধরে। কয়লা শ্রমিক হাজেরা খাতুন, রহিমা, মো. সালাম ও হাশেম আলীসহ বেশ কয়েকজন জানান, তারা যে কয়লা তুলেন, তা খুবই অল্প দামে বিক্রি করতে হয়।

কয়লা রাখার কোনো জায়গা নেই। যে কারণে তারা কয়লা নদী থেকে তুলেই বিক্রি করেন। একেকজন দুই আড়াইশ টাকার কয়লা বিক্রি করতে পারেন। তাই পরিবারের প্রায় বেশির ভাগ সদস্যই একই কাজ করেন। মহিলাদের বেলায় নানা অজুহাত দেখান মহাজনরা। কয়লা খারাপ, ছোট গুঁড়া বলে কম দরেও কেনেন অনেক সময়। বাধ্য হই কম দরে বিক্রি করতে। কয়লা মহাজন শামীম বলেন, আমরা শ্রমিকদের কাছ থেকে কয়লা কেনার পর নির্দিষ্ট মূল্যে শ্রমিকদের দিয়েই কয়লাটা ধোয়াই। কারণ তাদের কাছ থেকে আমরা যে কয়লা কিনি তাতে অনেক ময়লা, গুঁড়া খড়ি থাকে। ফলে ক্রয়মূল্য অনেক বেড়ে যায়। তবে এ নদীতে কয়লা ভাসায় কর্মসংস্থান হয়েছে শত শত নারী-পুরুষের। এই নদীতে শুধু কয়লাই নয়, এ থেকে উঠে আসছে সিলিকিন বালিও। এ নদী যেন কাঁচা সোনার খনি। আর এই নদী ঘিরেই এখানকার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই নদীটিকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। এমনটাই এখানকার মানুষের দাবি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর