Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৭

পাঁচ জেলায় বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত

প্রতিদিন ডেস্ক

পাঁচ জেলায় বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পাঁচ জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৪০ মামলার আসামি এক মাদক বিক্রেতা, খুলনা ও ময়মনসিংহে একজন করে দুজন মাদক বিক্রেতা, কুমিল্লায় একজন ছিনতাইকারী, কক্সবাজারের টেকনাফে এক ডাকাত ও এক মাদক বিক্রেতা। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঢাকা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর পার গেন্ডারিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হযরত আলী (৩৫) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় ১১ পিস ইয়াবা, অবিস্ফোরিত ককটেল, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা রয়েছে। রাত সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি বলেন, কিছু সন্ত্রাসী পার গেন্ডারিয়ায় অবস্থান করছে-           এমন সংবাদে রাতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন শনাক্ত করেন তিনি কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা হযরত আলী।

খুলনা : নগরীর সদর থানার নিরালার দীঘির পাড়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাসুদ রানা ওরফে মাসুদ নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, তিনি মাদক ব্যবসায়ী। গতকাল ভোররাতে নগরীর সদর থানার নিরালার দীঘির পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি তৈরি পাইপগান ও ধারালো অস্ত্রসহ ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দীঘির পাড়ে মাদক বিক্রি হচ্ছে- এমন সংবাদে সদর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও নিজেদের রক্ষার জন্য পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাসুদ রানাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আবদুর রশিদ (৫০) নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত ওই ব্যক্তি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে- এমন সংবাদে সেখানে অভিযান চালালে পুলিশকে লক্ষ্যে করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রশিদ নামের একজনকে পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লা : তিতাস উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. আল-আমিন নামে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাইসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, একটি এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিতাস থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস উপজেলার দড়িকান্দি সেতু সংলগ্ন এলাকায় ৫৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ২ সদস্যকে ১৫ লাখ টাকাসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে আটক আল-আমিনকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ ও তিতাস থানা পুলিশ অবশিষ্ট টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিতাসের দড়িকান্দিতে পৌঁছলে একদল ডাকাত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আল-আমিনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ওসি জানান, ডাকাতদের একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আল-আমিনের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি আহত হন। এ সময় তাকে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার : জেলার টেকনাফ উপজেলায় র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নুরুল আলম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন নামে দুই ডাকাত নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত এবং ভোররাতে হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া ও সাবরাং ইউপির সাবরাং কাটাবুনিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা নুরুল আলম টেকনাফের নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুট ও আনসার কমান্ডার আলী হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর  মেহেদী হাসান বলেন, রাতে র‌্যাবের একটি বিশেষ টহলদল হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়ায় কিছু লোককে দেখে চ্যালেঞ্জ করলে তারা র‌্যাবের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে  নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে র‌্যাব রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলমের লাশ শনাক্ত করে। তিনি আরও বলেন, র‌্যাব জানতে পারে, টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুট ও আনসার কমান্ডার আলী হোসেনের হত্যা মামলার প্রধান আসামি এই নুরুল আলম। তিনি দীর্ঘদিন দরে পলাতক ছিলেন।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। নিহত রোহিঙ্গা ডাকাতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১২ মে রাতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আনসার কমান্ডার আলী হোসেনকে হত্যার পর ৬০০ রাউন্ড গুলি ও ১৩টি অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুংধুম এলাকার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ১৩টি অস্ত্র ও ৯৫ রাউন্ড গুলিসহ তিন রোহিঙ্গাকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। এদিকে টেকনাফে বিজিবি ও চোরাকারিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি কর্তৃক মরিচ্যা চেকপোস্টে লক্ষ্মীপুর জিএমহাট শাকচরের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনকে (২৫) ইয়াবাসহ আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা শুক্রবার ভোররাতে সাবরাং ইউপির সাবরাং কাটাবুনিয়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন সংবাদে টেকনাফ ২ বিজিবির যৌথ টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর একদল ব্যক্তিকে দেখে টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। টহলদলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই চোরাকারবারি দলের লোকজন টহলদলের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও গুলিবর্ষণ করে। পরে ভোরের আলোতে টহলদলের সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি করে  মো. বেল্লাল হোসেনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

 


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর