শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:২০

যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ নিয়ে রায় যে কোনো দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ নিয়ে রায় যে কোনো দিন

যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু নাকি ৩০ বছরের কারাদ-, এ-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। আদালতে রিভিউ অবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ ছাড়া আদালতে এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, আবদুর রেজাক খান ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। তারা প্রত্যেকে যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের সাজার পক্ষে আদালতে মত তুলে ধরেন। এর আগে ১১ এপ্রিল ‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদ ’, এ-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউর শুনানিতে আইনি মতামত তুলে ধরতে চার আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত।

এ ব্যাপারে আইনজীবী শিশির মনির জানান, ‘২০১৩ সালে একটি মামলার রায়ে আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেয় যে, যাবজ্জীবন সাজা মানেই ২২ বছর ছয় মাসের সাজা। পরে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগের চার সদস্যের অন্য একটি বেঞ্চ একটি মামলায় সিদ্ধান্ত দেয় যে, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদ । আপিল বিভাগের সমসদস্যবিশিষ্ট দুটি বেঞ্চ পরস্পরবিরোধী রায় দিলে কোনটি প্রাধান্য পাবে- তা জানতে চেয়ে রিভিউ করেছিলাম। এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হবে যাবজ্জীবন মানে কত বছর।’ ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের এক হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের ৯২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ‘যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস’ বলে মন্তব্য করে আপিল বিভাগ। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৫ অক্টোবর একটি হত্যা মামলায় দুই আসামি আতাউর মৃধা ওরফে আতাউর ও আনোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদ  দেয় বিচারিক আদালত। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদ  অনুমোদনে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাই কোর্টে আসে। শুনানি নিয়ে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর হাই কোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদ  বহাল রাখা হয়। হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদ  কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ  দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাসসহ সাত দফা অভিমত দেয়। এরপর আপিলের ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর