বিনা নোটিসে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় রাজধানীর শ্যামলীতে সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ গার্মেন্ট শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ১০টার দিকে শ্যামলীর প্রধান সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন আলিফ অ্যাপারেলসের তিনটি কারখানার তিন শতাধিক কর্মী।
এরপর পুলিশি বাধার মুখে পড়লে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মূল সড়ক থেকে কিছুটা সরে গিয়ে শ্যামলী স্কয়ারের দিকে এসে আবারও অবস্থান নেন তারা। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলা বন্ধ থাকায় শ্যামলী থেকে কলাবাগান পর্যন্ত মিরপুর রোডে দেখা দেয় তীব্র যানজট। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানার ভিতরে নিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে শ্যামলী সিনেমা কমপ্লেক্সের পাশে ২৪/২ খিলজি রোডের চতুর্থ তলায় গার্মেন্টের অফিসে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। বৈঠকে শ্রমিক প্রতিনিধি ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানও অংশ নেন। বৈঠকে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না এলে আবারও সড়কে নামার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনরতরা। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে সড়কে যান চলা স্বাভাবিক হয়।’ আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ১১ আগস্ট তারা ঈদের ছুটিতে যান। ছুটির পর গতকাল আলিফ অ্যাপারেলস ১, ২ ও আলিফ গার্মেন্টস নামে তিনটি কারখানা খোলার কথা ছিল। সকালে এসে গার্মেন্টের ফটকে বন্ধের নোটিসসহ তালা ঝুলতে দেখেন তারা। গেটে বেশ কিছু পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়। ফলে দাবি আদায়ের জন্য তীব্র রোদের মধ্যেই তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। নুরুল হক নামে এক শ্রমিক জানান, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী বিনা নোটিসে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে ১২০ কর্মদিবসের বেতন, চলতি মাসের বেতন, ছুটি না কাটানোর পাওনা এবং যে যত দিন চাকরি করেছে, সেই হিসাবে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো আদায়ের দাবি জানাচ্ছি। তবে কয়েক দফা বৈঠকের পর এখনো কোনো সমাধান হয়নি।’ কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা হারুন জানান, ‘মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের পাওনা এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে।’