শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৫

অষ্টম কলাম

ফেসবুক লাইভে ১০ বছর পর সেই ছেলের সন্ধান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ফেসবুক লাইভে ১০ বছর পর সেই ছেলের সন্ধান

মাত্র সাত বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শফিকুল ইসলাম। বহু চেষ্টায় খোঁজ না পেয়ে এক সময় সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ধূলিহর গ্রামের শহীদ মিয়া ও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন। দীর্ঘ ১০ বছর পর সেই সন্তানকে ফেসবুকের লাইভে পেয়ে রবিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানগাঁওয়ের কাবুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। তারা বুকে টেনে নেন প্রিয় সন্তান শফিককে। ঢাকার রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পেয়ে এতদিন শফিককে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করছিলেন শ্রীমঙ্গলের কাবুল মিয়া। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশু শফিকের বয়স তখন মাত্র ৭ বছর। একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে শফিক ঢাকাগামী গাড়িতে উঠে ঘুমিয়ে পড়ে। অচেনা ঢাকায় গিয়ে বিপদে পড়ে শিশুটি। নিজের গ্রামের ঠিকানা এমনকি বাবা-মায়ের নামও বলতে পারত না সে। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখে শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী কাবুল মিয়া শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। শ্রীমঙ্গলের পুরানগাঁওয়ের কাবুল মিয়ার পরিবারের অন্য আট মেয়ে ও দুই ছেলের সঙ্গেই বেড়ে ওঠে শফিক। তবে, তিনি শফিকের বাবা-মায়ের খোঁজ করছিলেন।

গত ২৫ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলের শ্রীগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শেখ জসিম শফিককে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরে ছেলেটির প্রকৃত বাবা-মায়ের সন্ধান চান। এ ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে এ খবর আসে শফিকের বাবা-মায়ের কাছে। ফেসবুক লাইভ দেখে আর কাহিনি শুনে নিজের সন্তানকে চিনতে ভুল করেননি তারা। ছুটে যান শ্রীমঙ্গলে। কাবুল মিয়া বলেন, খারাপ লাগলেও ছেলেটিকে আসল বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।

শফিক জানায়, আমি শুধু গ্রামের নাম ধূলিহর বলতে পারতাম। আর কিছুই জানতাম না। আমি বাবা-মায়ের সন্ধান পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। কিন্তু পালক বাবার জন্য খারাপ লাগছে। তিনি আমাকে অনেক আদর করতেন।

শফিকের বাবা শহীদ মিয়া ও মা সুফিয়া খাতুন বলেন, আজ নিজের হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। আল্লাহর দরবারে হাজারো শুকরিয়া।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর