শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৬

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা কারাগারে বসেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা কারাগারে বসেই

কখনো র‌্যাব, কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে অপহরণ ও পরে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুটে নিত। এক পর্যায়ে সংঘবদ্ধ ওই ডাকাত দলের দুই সদস্য গ্রেফতার হয়। তবে কারাগারে সংশোধন না হয়ে সেখানে বসেই আবারও ডাকাতির পরিকল্পনা করে। জামিনের কয়েকদিনের মধ্যে আবারও  লিপ্ত হয় একই অপরাধে। এবার আবারও গ্রেফতার। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর রোডের দারুসসালাম খালেক ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে এ চক্রের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ওরফে স্বাধীনকে প্রথমে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মোহাম্মদপুর কলেজ গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে আলমগীর খাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ। পিবিআই-সূত্র জানান, গ্রেফতারকৃতরা গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেতে নিজেদের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে মাহমুদুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে পিস্তল ঠেকিয়ে একটি আইফোন, একটি শাওমি রেডমি নোট ও নগদ ৩ লাখ টাকা লুটে নেয়। পরে তার মুখ চেপে ধরে মারতে মারতে ব্রিজের নিচে থাকা ডাকাত দলের এক্স করোলা গাড়িতে ওঠায়। গাড়িতে ওঠানোর সময় তার চিৎকার শুনে একজন উবারচালক, ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ও উপস্থিত জনতাকে এগিয়ে আসতে দেখে ডাকাত দল তাদের গাড়ি ও র‌্যাবের জ্যাকেট ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ডাকাতদের ফেলে যাওয়া এক্স করোলা গাড়ি, র‌্যাবের জ্যাকেট, গাড়ির কাগজ ও আইডি কার্ড উদ্ধার করে দীর্ঘ তদন্তের পর এদের গ্রেফতার করে। ওই ঘটনায় মাহমুদুলের ভাই যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। এসপি বশির জানান, জামিন পেয়ে ফের ডাকাতির পরিকল্পনা করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের নগদ টাকার লেনদেন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করত। এরপর টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় সুযোগমতো তাদের অনুসরণ করত। নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পথচারীদের কাছে অবৈধ জিনিস আছে হুমকি দিয়ে তাদের নির্ধারিত মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। পরবর্তী সময়ে নিরিবিলি ও সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর করে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিত। ডাকাতি করার জন্য তারা সাধারণত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ভাড়া করে নিত। ডাকাতি শেষে ওই গাড়ি জমা দিয়ে তারা চলে যেত।


আপনার মন্তব্য