শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২০ ০০:১৯

টঙ্গীতে সিরিয়াল ধর্ষক বন্দুকযুদ্ধে নিহত

টঙ্গী প্রতিনিধি

গাজীপুর টঙ্গীর মধুমিতা বেলতলা এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু চাঁদনী (৭) হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সিরিয়াল ধর্ষক সুফিয়ান নিলয় (২১) বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১ এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ম্যাগাজিনসহ বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী ও র‌্যাব সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শিশু চাঁদনী হত্যা মামলার আসামি নিলয় মধুমিতা এলাকায় রেললাইনের পাশে অবস্থান করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মধুমিতা রেললাইনের পাশে  পৌঁছে নিলয়কে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় নিলয় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ গুলিবিনিময়ের পর নিলয় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার  লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চাঁদনী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নিলয়কে আমরা ধরতে গেলে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে আমরাও গুলি চালাই। তিনি আরও জানান, নিলয় সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী চুরি, ছিনতাইকারী দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। সে দীর্ঘদিন টঙ্গী রেলস্টেশন এবং তার আশপাশ এলাকায় নিয়মিত চুরি-ছিনতাই করে আসছিল। উল্লেখ্য, গত ১৬ মে গাজীপুরের টঙ্গী মধুমিতা রেলগেট এলাকার একটি ময়লার স্তূপ থেকে মধুমিতা বেলতলা এলাকার ভাড়াটিয়া মো. মামুন মিয়ার মেয়ে মাদ্রাসাছাত্রী চাঁদনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা চাঁদনীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে এবং দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে নিলয় ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিলয়ের পরিবার এবং নিহত চাঁদনীর পরিবার একই ভবনে ভাড়া থাকত, সেই সুবাদে নিলয় এবং চাঁদনী পূর্ব পরিচিত। গত ১৫ মে বিকালে কৌশলে ফুসলিয়ে চাঁদনীকে নির্জন স্থানে নিয়ে নিলয় ও তার সহযোগী একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা তাকে গলা টিপে হত্যা করে ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পাশে খেলার মাঠে খেলাধুলা করতে আসলে নিলয় এবং তার সহযোগী মিলে চাঁদনীকে চোখে চোখে রাখে এবং খেলাধুলা চলাকালীন সময়ে নিলয় তাকে কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে ফুল পেড়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি শুরু হলে চাঁদনী বাসায় ফিরছিল। এ সময় পথে বৃষ্টি হওয়ায় আশপাশে লোক সমাগম কম থাকায়  নিলয় ও তার সহযোগী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে চাঁদনীকে চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী টঙ্গীর মধুমিতা রেলগেট এলাকায় সজীবের ইটের স্তূপের আড়ালে নিয়ে যায়। এরপর  নিলয় চাঁদনীর দুই হাত মুখ চেপে ধরে রাখে এবং তার সহযোগী চাঁদনীকে ধর্ষণ করে। এভাবে তারা দুজনই পালাক্রমে একাধিক বার ধর্ষণ করে। চাঁদনী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন ধর্ষণকারীরা ভাবে বাসায় গিয়ে সবাইকে বলে দেবে। হয়তো এমনটাই মনে করে  চাঁদনীর গলা টিপে ধরে এবং নিলয় দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর