শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ২৩:৫২

রাজনৈতিক লকডাউন খুলবে কবে

দুই দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধ, ভার্চুয়ালে চলছে কর্মকাণ্ড

মাহমুদ আজহার ও রফিকুল ইসলাম রনি

রাজনৈতিক লকডাউন খুলবে কবে

রাজনৈতিক লকডাউন কবে খুলবে-এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের হাজারো প্রশ্ন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে সভা-সমাবেশ, শোডাউনসহ সাংগঠনিক কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো ভার্চুয়াল মাধ্যমে বেশ সরব। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাগ্যুদ্ধ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে এতদিন ব্যস্ত ছিলেন তারা। ঈদের পর রাজনৈতিক ত্রাণ বিতরণ কমে এলেও এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমে চলছে রাজনৈতিক কার্যক্রম। কভিড-১৯ এ সারা বিশ্বের মতো আক্রান্ত বাংলাদেশও। এরই মধ্যে সরকার অবশ্য শর্তসাপেক্ষে লকডাউন খুলে দিয়েছে। সীমিতভাবে চলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রমও। তবে সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের রাজনৈতিক শোডাউন বন্ধ রয়েছে প্রায় তিন মাস ধরে। তবে কবে খুলবে রাজনৈতিক কার্যক্রম তা সবারই অজানা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের লকডাউন খুলবে না। তবে আমরা বসে নেই। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকেই নিজ নিজ সাধ্যমতো প্রায় দেড় কোটি মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পেরেছি। ভার্চুয়ালের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি। দিবসভিত্তিক কর্মকান্ডও চলছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীও আমরা পালন করেছি। তবে সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে চরম ভুল করেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। এতে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এর দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে সবকিছু করছেন। করোনার শুরুতেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। নেতা-কর্মীরাও ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে রয়েছে। হয়তো আমরা সাংগঠনিক কাজের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ, কমিটি গঠন করছি না। কিন্তু জনগণের পাশে থাকাও সাংগঠনিক কাজের অংশ। 

আওয়ামী লীগ : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে জেলা-উপজেলা সম্মেলন, জনসভা এগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় জনসমাগম এড়িয়ে চলতেই এই মুহূর্তে জেলা-উপজেলা সম্মেলন কিংবা জনসভা, কর্মিসভা বন্ধ রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্মেলন বা কমিটি গঠন বন্ধ থাকলেও ‘লকডাউন’ নেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এমনটাই বলছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে মানুষের সেবা করা। আমরা সেটা করে যাচ্ছি। করোনার মহামারী শুরু থেকে মাঝখানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আগে ও পরে জনগণের পাশেই রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, করোনার শুরু থেকে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আগে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে সচেতন করা, সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসার কাজ করেছে ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-কর্মীরা। শুধ সাংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে সম্মেলন ও কমিটি গঠন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কাজ এখনই করার চিন্তা নেই দলটির নেতা-কর্মীদের। আরও সময় নিতে চান বলে জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজনৈতিক লকডাউন, আওয়ামী লীগ বহু আগে খুলেছে। আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। মানুষের সেবা করাই কাজ। সে কাজ চলমান আছে। দিন তারিখ ঠিক করে রাজনীতি হয় না। ভবিষ্যতেও হবে না। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী, সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাজারও ঝুঁকির মধ্যে মহামারী করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য সহায়তাসহ সব ধরনের কাজ করছে। এর চেয়ে আর লকডাউন কীভাবে খুলবে আমার ৫২ বছর রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারছি না। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আম্ফানের আগে মানুষকে সচেতন করা, আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসাও দলীয় কর্মকান্ড। আমাদের কার্যক্রম চলছে। তবে ধরন ও প্রকৃতি পরিবর্তন হয়েছে। রাজনীতির মূল কাজ যদি সম্মেলন ও কমিটি গঠন ধরা হয় তাহলে আমরা আরও একটু সময় নেব। এ নিয়ে এখনই ভাবার সময় আসেনি। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে জনগণের সেবা করা। তা করে যাচ্ছি। জেলা-উপজেলা নেতাদের করোনার দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কেউ কোথায় অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হয়তো সাংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে সম্মেলন বা কমিটি গঠনের কাজ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অন্য সবকিছু স্বাভাবিক আছে।

বিএনপি : করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৫ মে পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবেই সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দলটির। এর আগে সাংগঠনিক কার্যক্রম ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব এখন নিরুপায়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কে কখন আক্রান্ত হয় বলা যায় না। এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। দলীয় ফোরামে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংগঠন গোছানোর কার্যক্রম ২৫ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু আমাদেও দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। তাই সময় আরও বাড়ানো হবে।

জানা যায়, জনসমাগম এড়িয়ে দলীয় সভা-সমাবেশও স্থগিতের পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় কোনো শোডাউন না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত ২২ মার্চ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ‘দেশব্যাপী বিএনপির সব পর্যায়ের চলমান কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’ এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করেন জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাফর আলী মিয়া। এক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহান্দার আলী জাহানের অনুমোদনও নেননি তিনি। পরে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রে অভিযোগ করলে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিএনপির হাইকমান্ড।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এরকম একটি পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশেষ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলতে পারে না। আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক নানা কর্মকান্ড ভার্চুয়ালে হচ্ছে। যখন করোনা পরিস্থিতি কম ছিল তখন আমরা ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রমে শরিক হয়েছি। তবে সরকার যদি শুরুর দিকে জানুয়ারিতে বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়ে দেশজুড়ে লকডাউন করে দিত তাহলে আমাদের এই পরিস্থিতি হতো না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর