শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:১৫

পাওনা টাকার ক্ষোভে ভগ্নিপতিকে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবুল খায়েরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সজীব বিল্ডার্সের শ্রমিকদের প্রধান ছিলেন মো. মিলন। আবুল খায়ের তার ভগ্নিপতি। মূলত তাদের দুজনের মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মিলন প্রথমে রড এবং পরে কাঠ দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন আবুল খায়েরকে। শনিবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে মিলনকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য দিয়েছেন তিনি। গতকাল ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ভাটারা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে আবুল খায়েরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্তে মিলনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মিলন হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ডিসি সুদীপ কুমার বলেন, শুক্রবার বেলা ৩টায় একটি ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন আবুল খায়ের। প্রতিদিন সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরলেও সেদিন ফেরেননি তিনি। তার ফোনও বন্ধ ছিল। পরে স্ত্রী রূপালী বেগম আবুল খায়েরের নির্মাণাধীন ভবনে যান। সেখানে তিনি স্বামীর মোটরসাইকেল দেখতে পান। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আবুল খায়েরের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন রূপালী। পরে ভাটারা থানা পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। ডিসি সুদীপ বলেন, মিলন ও আবুল খায়ের দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করতেন। প্রথমে দুজনই নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পরে তারা নির্মাণপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের এমডি হন আবুল খায়ের। এতে আবুল খায়েরের ভাগ্য ফিরলেও ফেরেনি মিলনের। তিনি এখনো নির্মাণশ্রমিকই। দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে সজীব বিল্ডার্সেই রড বাইন্ডার হিসেবে কাজ করতেন মিলন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। নির্মাণ ব্যবসা করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। নবনির্মিত যে প্রজেক্টে কাজ চলছিল সেখানে আবুল খায়ের ছিলেন মূল ঠিকাদার এবং মিলন ছিলেন প্রধান শ্রমিক। মিলন দাবি করেন, তিনি মজুরি বাবদ প্রায় ৮ লাখ টাকা আবুল খায়েরের কাছে পেতেন। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যে মুনাফা আসত এর কোনো ভাগই মিলন পেতেন না। একই প্রজেক্টে তিনি এবং তার ভগ্নিপতি কাজ করতেন অথচ ভগ্নিপতি মুনাফা পাচ্ছেন, তিনি পাচ্ছেন না। এসব বিষয় মিলনকে মানসিক পীড়া দিত। এ ছাড়া শ্রমিক হিসেবেই মিলনকে ট্রিট করতেন আবুল খায়ের। একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করলেও আবুল খায়ের ডাকতে হতো ‘বস’ বলে। এসব মানতে পারেননি মিলন।

ডিসি সুদীপ বলেন, মিলন আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, মিলন প্রায়ই বোনের বাসায় যেতেন। বোন ও ভগ্নিপতি আবুল খায়েরের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি ভেবেই তিনি ভগ্নিপতি আবুল খায়েরকে ওই নির্মাণাধীন ভবনে কথা বলতে ডেকেছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে বাগ্্বিতন্ডা হয়। এতে খেপে গিয়ে ওই ভবনে থাকা লোহার রড ও কাঠ দিয়ে আবুল খায়েরের মাথায় আঘাত করেন তিনি।

ডিসি বলেন, ‘আমরা পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছি আবুল খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মিলন একাই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। হত্যার পর তার চাঁদপুর চলে যাওয়া এবং চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসা পুলিশের সঙ্গে এমন লুকোচুরিতে সন্দেহ হয়। গ্রেফতারের পর মিলন সব দায় স্বীকার করেন। আমরা খুব দ্রুতই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করব।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর