শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০২১ ২৩:৩৫

লিবিয়ায় বন্দী ২৪ যুবক, নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Google News

মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চার যুবকসহ মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকার ২৪ যুবক লিবিয়ার মাফিয়াদের কাছে বন্দী হয়েছেন। এসব যুবককে শারীরিক নির্যাতন করে সেই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

ভুক্তভোগীদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে চিহ্নিত করে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দালাল চক্রের সদস্যরা তাদের দালালি কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। দালাল চক্র বিভিন্ন দেশে মোটা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন দিনের পর দিন। অনেককে জীবন দিতে হচ্ছে অথৈ সমুদ্রে কিংবা মাফিয়াদের হাতে। গত সোমবার (৩ মে) থেকে লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে আটক রয়েছেন মাদারীপুরের ২৪ জন যুবক। মাফিয়ারা নির্যাতন করে সেই সব ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুলাইল ইউনিয়নের চাছার গ্রামের এরশাদ হোসেন জনি নামে এক যুবককে লিবিয়ার একটি ঘরে বন্দী করে শারীরিক নির্যাতন করে টাকা দাবি করছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চাছার গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, এই গ্রামেরই চার যুবকসহ মাদারীপুরের ২৪ জনকে বন্দী করে নির্যাতন করা হচ্ছে টাকার জন্য। স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চাছার গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ খান ইউছুফ এলাকার খুব পরিচিত দালাল। ৪/৫ বছর ধরে তিনি মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার মাধ্যমে ৩০০ যুবক লিবিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছেন। যার বেশির ভাগ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছেছেন। এসব লোক পাঠাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে। জাহিদ খানের কাজ হলো মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যারা বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তাদের সংগ্রহ করা। প্রত্যেকের সঙ্গে ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা চুক্তি হয়। রুট হিসেবে তারা ব্যবহার করেছেন লিবিয়া। সেখান থেকে অবৈধ পথে ইতালি। জাহিদ খানের মাধ্যমে মাদারীপুরের যেসব লোক লিবিয়া গেছেন তাদের অনেকে এখনো যেতে পারেননি। তারা লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন। সবশেষ তার মাধ্যমে যাওয়া ২৪ যুবককে লিবিয়ার মাফিয়ারা আটক করে টাকার জন্য নির্যাতন করছেন। জাহিদ খান এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বুধবার এই জাহিদ খানকে পাঁচটি পাসপোর্টসহ আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

লিবিয়ায় বন্দী সদর উপজেলার ধুলাইল ইউনিয়নের চার যুবক। এরা হচ্ছেন- এরশাদ হোসেন জনি মিয়া ও হিফজু হাওলাদার। তাদের দুজনের বাড়ি চাছার গ্রামে। এ ছাড়াও রয়েছেন মো. আসাদুল খান এবং মো. জাহিদুল ইসলাম। তাদের বাড়ি ধুরাইল ইউনিয়নের সরদারকান্দি গ্রামে। বাকি ২০ জনের বাড়ি মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। লিবিয়ার মাফিয়ারা বন্দীদের নির্যাতনের সেই ভিডিও তাদের পরিবারের কাছে পাঠায়। টাকা না দিলে বন্দীদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এতে পরিবারের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। মাফিয়ার কাছে আটক হিফজু হাওলাদারের বাবা হাবু হাওলাদার বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে জাহিদ খান ইউছুফের মাধ্যমে গত দুই মাস আগে লিবিয়া পাঠাই। তার সঙ্গে আমার ৮ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ২ লাখ টাকা আমি ইতিমধ্যে তার কাছে দিয়েছি। বাকি টাকা লিবিয়া যাওয়ার পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আমার ছেলেসহ মোট ২৪ জন লিবিয়ায় মাফিয়াদের হাতে আটক রয়েছে। তাদের নির্যাতন করে সেই ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? আমি আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে চাই।’ মাদারীপুর সদর থানার এসআই মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘মানব পাচারের অভিযোগে জাহিদ খানকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।’ মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। একজনকে আটক করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরও খবর