শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

ট্রলারডুবিতে নয় খুন হয়েছিল

মির্জা মেহেদী তমাল

ট্রলারডুবিতে নয় খুন হয়েছিল

বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা বাইচ দেখে ফিরে আসার সময় চরচামারদহ এলাকায় ট্রলার ডুবিতে প্রাণ হারান রবিন। পরদিন তার লাশ ভেসে উঠলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তা উদ্ধার করে। এ ঘটনার এক দিন পর রবিনের বাবা মোস্তফা শিকদার একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. চুন্নু মিয়ার কাছে রবিনের মৃত্যুর বিষয়ে নানা তথ্য আসতে থাকে। এতে তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। মামলার তদন্ত তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। ঘটনাটি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের।

পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চুন্ন মিয়া অপমৃত্যু মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন তদন্ত করতে গিয়ে। দীর্ঘ এক মাস মামলার গভীরে ঢুকে তদন্তের প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনার সময় উপস্থিত নিহত রবিনের বন্ধু বিপ্লব (৩০) ও মিরাজকে (২০) গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর নিহত রবিন, কামাল (৫০), আদিল, বিপ্লব (৩০), মিরাজ (২০) ও অহিদ দুটি ট্রলার নিয়ে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর এলাকায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে যান। নৌকাবাইচ দেখে ফিরে আশার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পথিমধ্যে তারা রবিনকে হত্যা করেন। তারা স্বীকার করেন, কামালের মেয়ের সঙ্গে রবিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা কামালের পছন্দ ছিল না। কয়েকবার নিষেধ করেও রবিনকে মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থেকে দূরে রাখতে পারেননি  কামাল। এ জন্য কামালের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তাকে মারার পরিকল্পনা করেন। গত ৬ অক্টোবর পরিকল্পনা অনুযায়ী নৌকাবাইচ দেখে ফিরে আসার সময় রবিনকে তারা চারজন মিলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং ট্রলার নোঙর করার লোহার রড দিয়ে রবিনের বুকে আঘাত করে হত্যা করেন। ট্রলার ডুবে রবিন মারা গেছে বলে সবাইকে জানান। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানায়, রবিন হত্যায় বিপ্লব ও মিরাজ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, তাদের দুজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।