শিরোনাম
শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

ভ্যাট ফাঁকি রোধে ইএফডি বসবে সর্বত্র

► খুচরা দোকান থেকেও আদায় হবে ভ্যাট ► রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের উদ্যোগ

শাহেদ আলী ইরশাদ

উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি ভ্যাট আদায় বাড়াতে ছোটবড় সব ধরনের দোকানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৮ হাজার ৫০০ ডিভাইস বসানো হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৬০ হাজার ডিভাইস বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। খুচরা দোকান থেকে ভ্যাট আদায়ে পণ্য কেনার সময় রসিদ সংগ্রহ করার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। চলমান ডলার সংকটে কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসাবাণিজ্যের গতি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়ে। প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় বাড়ছে না। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজস্ব বিভাগ। সব ধরনের পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায় করে এনবিআর। মূল্য সংযোজন কর বাবদ সংস্থাটি চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) আয় করেছে ৪০ হাজার ৪৮ কোটি টাকা; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৩২০ কোটি টাকা কম। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এনবিআর বলছে, চলমান অস্থিরতার কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূল্য সংযোজন কর)  ড. মইনুল খান বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ যে আমদানি কমে যাচ্ছে। উৎপাদন কম হলেও আমরা একটি কৌশল অবলম্বন করে রাজস্ব আদায় ধরে রেখেছি। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। নেট কর বাড়িয়েছি; যাতে আমাদের রাজস্ব কমে না যায়। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ের ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে। আশা করি চলতি অর্থবছরের বাকি যে মাসগুলো আছে, সেখানেও আমাদের আদায়ের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’ এ লক্ষ্য সামনে রেখে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে একগুচ্ছ পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মুহাম্মদ রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, ‘ভ্যাট আদায় বাড়াতে সারা দেশের খুচরা পর্যায়ের দোকানে ইএফডি বসানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১৮ হাজার ৫০০ দোকানে ইএফডি বসানো হয়েছে; যা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ৬০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ৩ লাখ ইএফডি বসানো সম্পন্ন হবে।’ তবে শুধু ইএফডি বসিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পণ্য কেনার পরে চালান না নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ভাউচার নেওয়ার সুবিধা হলো কার কাছ থেকে আমি পণ্যটি কিনলাম তার একটা প্রমাণ থাকল। আরেকটি বিষয় হলো, দোকান থেকে কত টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, গ্রাহক কত টাকা ভ্যাট দিয়েছেন সে হিসাবটাও থাকল। গ্রাহককে প্রতিটি পণ্য কেনার পর ভ্যাট চালান বুঝে নিতে হবে।’ চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব হিসেবে ৫ লাখ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

এর মধ্যে এনবিআর সংগ্রহ করবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি এবং অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে আরও ৭০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৬৭ হাজার কোটি টাকা কম।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর