Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০১৯ ১২:৫২
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৯ ১৩:০৭

ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো অনন্য শরীরের অন্য যেসব অঙ্গ

অনলাইন ডেস্ক

ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো অনন্য শরীরের অন্য যেসব অঙ্গ

ফিঙ্গারপ্রিন্ট এমন এক জিনিস, যা গোটাবিশ্বের সাতশ কোটি মানুষের কারও সঙ্গে মিলবে না। এটি অনন্য একটি বিষয়। শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট নয়, শরীরে আরও কিছু ইউনিক বা অনন্য অংশ রয়েছে। আসুন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যতীত অন্যান্য ইউনিক অংশ সম্পর্কে জেনে নিই।

আইরিস: আইরিস হলো একটি মাংসপেশি যা চোখে কতটুকু আলো প্রবেশ করবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পিউপিলকে খোলে ও বন্ধ করে। আইরিসের রয়েছে ক্ষুদ্র গাঠনিক প্যাটার্ন। ডিএনএ আইরিসের বর্ণ ও গঠন নির্ধারণ করে, কিন্তু এটির র‍্যান্ডম পিট, ফারো, সোয়ার্ল এবং রিফট হয়ে থাকে ভ্রুণের বিকাশের সময়- একারণে প্রত্যেক আইরিসই ইউনিক, এমনকি আপনার দুটি আইরিসও একটি অপরটির সঙ্গে মিলবে না। ভ্রুণ তার বিকশিত চোখ খোলে ও বন্ধ করে এবং আইরিস টিস্যু শক্ত ও ভাঁজ হয়।

কান: আপনার কানের রিম স্পর্শ করে দেখুন: বক্রতা ও ঢালু অংশ অনুভব করছেন? আপনার এই গঠন বিশ্বের আর কারো সঙ্গে মিলবে না। একটি ব্রিটিশ গবেষণায় গবেষকরা একটি অ্যালগরিদম ডেভেলপ করেন যা কানের বক্রতায় আলো কিভাবে রিফ্লেক্ট হয় তা বিশ্লেষণ করে ৯৯.৬ শতাংশ নির্ভুল রেটে ২৫০ জনেরও বেশি লোকের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। কান এতই সুবিধাজনক শনাক্তকারী যে ইয়াহু ইয়ার স্ক্যানার দিয়ে স্মার্টফোন আনলকের জন্য প্রযুক্তি ডেভেলপ করছে।

লিপ প্রিন্ট: গোয়েন্দারা চুম্বন থেকে প্রমাণ খুঁজে পেতে পারে! জার্নাল অব ফরেনসিক ডেন্টাল সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, ঠৌঁটের উঁচু-নিচুর প্যাটার্ন ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতোই ইউনিক। কিছু মামলায় কোর্টে লিপ প্রিন্টকে শনাক্তকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে মাথায় রাখতে হবে যে, সাধারণত অপরাধীরা ক্রাইম সিনে চুম্বন করতে যায় না।

জিহ্বা: ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো জিহ্বার নিজস্ব শেপ বা গঠন রয়েছে। আপনার জিহ্বার ছোট পিণ্ড ও ঢালু অংশ আসলেই ইউনিক, অন্য কারো সঙ্গে তা মিলবে না। এসব প্যাটার্নের পরিবর্তন হয় না বললেই চলে, কারণ আপনার জিহ্বা মুখের ভেতর সুরক্ষিত থাকে (ফিঙ্গারটিপ এমনটা নয়, এটি বিকৃত হতে পারে)। গবেষকরা শনাক্তকরণের সুবিধার জন্য জিহ্বার থ্রিডি ইমেজিং ডেভেলপ করছেন।

কণ্ঠস্বর: ঠিক আছে, মানছি যে কণ্ঠস্বর শরীরের অংশ নয়, কিন্তু আপনার কণ্ঠস্বর অন্য যে কারো থেকে ভিন্ন। কিছু কণ্ঠস্বরীয় বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা সহজ, যেমন- ফ্রিকোয়ন্সি (উচ্চ অথবা নিম্ন) এবং ইন্টেনসিটি (লাউড অথবা সফট)। এছাড়া অন্যান্য বৈশিষ্ট্য, যেমন- টাইটনেস বা টান, রিজোন্যান্স বা গভীরতা ও ন্যাজালিটি বা নাসিক্যতা, সাধারণত নিরূপণ করা কঠিন। একজন মানুষের অনন্য ভোকাল ট্র্যাক্ট কিছুটা জেনেটিক বা বংশগত এবং কিছুটা লার্নড বা অর্জিত। গলার দৈর্ঘ্য এবং গলবিলের প্রস্থ একটি ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অর্জিত বৈশিষ্ট্যও অবদান রাখে, যেমন- ঠোঁট নাড়ানো ও স্বরধ্বনির উচ্চারণ। এসব বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে এমন সিস্টেম তৈরি করেছেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শনাক্ত করতে পারে, যদি এটি ডাটাবেজে পূর্বে রেকর্ড করা থাকে।

টো প্রিন্ট: একটা ভ্রুণের টো প্রিন্ট ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই সময়ে ডেভেলপ হয় এবং উভয়েই ইউনিক। যেহেতু অপরাধীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেখে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাধারণত ফুট প্রিন্ট বা টো প্রিন্টের পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষণের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়।

দাঁত: আপনি জানেন যে আপনার দাঁত আপনার ডিএনএ প্রকাশ করে (একারণে লাশ শনাক্ত করতে প্রায়সময় ডেন্টাল রেকর্ড ব্যবহার করা হয়), কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে আপনার দাঁতও অনন্য হয়ে যায়। ব্যক্তিগত অভ্যাস অথবা পরিবেশগত ফ্যাক্টরের কারণে এমনকি একই চেহারার যমজদের দাঁতের সেটও ভিন্ন হয়।

রেটিনা: চোখের পেছনে অবস্থিত রেটিনা হলো আপনার স্নায়ুতন্ত্রের একটি যথাযথ স্ন্যাপশট এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো এটিও ইউনিক। এটি রক্তনালির একটি প্যাটার্ন প্রদর্শন করে যা আপনার চোখের ডাক্তার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং এমনকি ক্ষয়মূলক মস্তিষ্কের দশার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পর্যবেক্ষণ করে। সাধারণত অপটোমেট্রিস্টদের দ্বারা মানব রেটিনা পর্যবেক্ষণ হয়, কোনো ক্রিমিনাল কেসে এর ব্যবহার নেই।

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য